রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায়

রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায়


রাজশাহীর ইতিহাস স্থাপত্য ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখতে চাইলে বাঘা শাহী মসজিদ আপনার ভ্রমণ তালিকায় রাখার মত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই স্থাপনাটি শুধু একটি প্রাচীন মসজিদ নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুলতানি আমলের স্থাপত্য পোড়ামাটির কারুকাজ, বিশাল দিঘী, মাজার, জাদুঘর এবং স্থানীয় ঐতিহ্য। তাই রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায় জানা থাকলে আপনার পুরো ভ্রমণটি অনেক সহজ হয়ে যাবে। এই পোস্টে আমরা রাজশাহীর বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও বিস্তারিত আলোচনা করার পাশাপাশি

রাজশাহী শহর থেকে কিভাবে বাঘা মসজিদে যাবেন এবং বর্তমান যাতায়াত ভাড়া, মসজিদের আশেপাশে কোথায় ঘুরবেন, বাঘার ঐতিহ্যবাহী মেলা কখন হয় এবং একদিনে রাজশাহী শহর কিভাবে ঘুরতে পারেন। বিশেষ করে আপনি যদি প্রথমবার বাঘা মসজিদ দেখতে যেতে চান, তাহলে রাজশাহী বাঘা মসজিদে কিভাবে যাবেন? এই প্রশ্নের উত্তর এখানে ধাপে ধাপে পাবেন। আশা করি আপনি পুরো পোষ্ট পড়ার মাধ্যমে রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায় জানতে পারবেন।

পোষ্ট সূচিপত্রঃ রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায়

বাঘা মসজিদে প্রাচীন টেরাকোটা ও স্থাপত্য শৈলী 

রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায় জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে এর নির্মাণ ইতিহাস। বাঘা শাহী মসজিদ রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার সদরের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপনা। হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন শাহের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দিন নুসরত শাহের শাসন আমলে ১৫২৩ থেকে ১৫২৪ সালের (৯৩০ হিজরী) দিকে বাঘা মসজিদটি নির্মিত হয়। বিধায় বর্তমানে এই মসজিদের বয়স প্রায় ৫০০ বছর। প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত রাজশাহী বাঘা মসজিদ এবং এর ইতিহাস ও বিস্তারিত বুঝতে হলে এর পোড়ামাটির অলংকরণ বিশেষভাবে লক্ষ্য করা দরকার। মসজিদের দেয়ালে ও বিভিন্ন অংশের ট্যারাকোটার কাজ রয়েছে। ফুল,   লতাপাতা, জ্যামিতিক নকশা সহ নানা ধরনের অলংকরণ এখানে দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে কিছুটা কারুকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনো অনেক টেরাকোটা ফলক দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যাচ্ছে।

২৫৬ বিঘা আয়োতনের জমির উপরে অবস্থিত রাজশাহী বাঘা মসজিদ, সীমানার বাইরের রাস্তার সমতল থেকে ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু করে মসজিদের আঙ্গিনা তৈরি করা হয়েছে, তাই এটি রাস্তার চেয়ে অনেক উঁচু এবং বন্যার পানি থেকে অনেক নিরাপদ অবস্থায় আছে। বাঘা মসজিদটির ছাদে ১০ (দশ) টি গম্বুজ রয়েছে যার প্রতিটির ব্যাস ২৪ ফুট এবং উচ্চতা ১২ ফুট  আর ভেতরে রয়েছে ছয়টি স্তম্ভ। মসজিদের চারটি মেহরাব রয়েছে যা অত্যন্ত কারুকার্য ক্ষচিত। মসজিদটি উত্তর ও দক্ষিণে লম্বায় ৭৫ ফুট এবং পূর্ব ও পশ্চিমে প্রস্থে ৪২ ফুট, মসজিদটি উচ্চতায় ২৪ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং এর দেয়াল চওড়ায় ৮ ফুট। বাঘা মসজিদের চৌচালা গম্বুজের ব্যাস ২০ ফুট এবং এর উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট।

মসজিদের মাঝখানে দরজার উপরে ফাঁসির ভাষায় লেখা একটি শিলালিপি স্থাপন করা আছে। মসজিদের ভেতরে এবং বাইরের দেয়ালে মেহরাব ও স্তম্ভ রয়েছে। বাঘা মসজিদের ছাদে পাশাপাশি ১০ (দশ) টি গম্বুজ রয়েছে এবং চারদিকে চারটি মিনার এর উপরে আরও ৪ (চার) টি গম্বুজ রয়েছে। এই চারটি গম্বুজ একত্রে করলে মোট ১৪ টি গম্বুজ পাওয়া যাবে। মসজিদের ভিতরে প্রবেশের জন্য ৫ টি দরজা রয়েছে।  পুরো মসজিদের দেয়ালটির গাঁথুনি চুন এবং সুরকি দিয়ে সুন্দরভাবে করা হয়েছে। নিরাপত্তর জন্য  মসজিদের চারদিকে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে এবং প্রবেশের জন্য দুটি প্রবেশদ্বারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড

মসজিদ প্রাঙ্গণের উত্তর পাশে রয়েছে হযরত শাহদৌলা ও তার পাঁচ সঙ্গীর মাজার। এছাড়াও মসজিদের পাশেই জহর খাকী পীরের মাজার আছে এবং তার করবটি মূল মাজারের উত্তর পাশে আছে। বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসাইন এর পুত্র নাসির উদ্দিন নুসরত মানুষের সুপয়েও পানির প্রয়োজনে মসজিদের সামনেই ৫২ বিঘা আয়োতনের একটি দিঘীটি খনন করেন। দীঘির পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য সরু রাস্তা তৈরী করা হয়েছে এবং দীঘির চারপাশে বসার জন্য সুন্দর চারটি বাধানো সিঁড়ি রয়েছে। সুবিশাল দীঘির সামনের সিঁড়িতে বসলে যে কারো মন জুড়ে যায়।

দীঘির আয়োতন বাড়ানোর জন্য ১৯৯৭ সালে মাজারের পশ্চিম পাশে নতুন করে খনন কাজ শুরু করলে ৩০ ফুট বাই ২০ ফুট আয়তনের একটি বাঁধানো মহল পুকুরের সন্ধান মিলে এবং এই পুকুরটি সুড়ঙ্গপথ দিয়ে অন্দরমহলের সাথে যুক্ত ছিল। অন্দরমহলের সাথে যুক্ত পুকুরের বাধানো সিঁড়ি তিন দিক থেকে নিচের দিকে নেমে গেছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে প্রচুর পোড়ামাটির ফলক এবং মসজিদের ভেতরের উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি উঁচুতে নির্মিত একটি বিশেষ নামাজ ঘর আছে।

মসজিদ সংলগ্ন এলাকার প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের দিন থেকে পরের তিনদিন পর্যন্ত মেলার আয়োজন করা হয় যা “বাঘা মেলা” নামে পরিচাত। এই মেলাটি ৫০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে এবং এই মেলায় বাঘা উপজেলার মানুষসহ বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার মানুষ অংশ নেয়। প্রাচীন ঐতিহাসিক মসজিটিকে দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ।

কেউ কেউ আবার পরিবার নিয়ে এসে মসজিদের পাশেই রান্না করে খাওয়া দাওয়া করেন। অনেকে আবার হাঁস, মুরগি, ছাগল, টাকা-পয়সা সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র মানত করেন বিভিন্ন আশা পূরণের জন্য ।পুরুষ দর্শনার্থীদের অধিকাংশই এই মসজিদে আসলেই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে যান। প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসে এখানকার এলাকাবাসী মসজিদে জুম্মার নামাজ এবং রাতে তারাবির নামাজ আদায় করেন এবং আল্লাহর দরবারে মনের আশা পূরণের জন্য বিভিন্ন দোয়া করেন।

বাঘা মসজিদের আশপাশে পরিবার নিয়ে ঘোরার জায়গা 

শুধু মসজিদ দেখে ফিরে আসার প্রয়োজন নেই। রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায় পাশাপাশি, আপনাকে রাজশাহী কয়েকটি স্থান পরিকল্পনায় রাখলে, আপনার ভ্রমণ আরো সুন্দর হতে পারে। বাঘার আশেপাশে কিছু জায়গা আছে, যে জায়গা গুলোতে আপনি আপনার পরিবার নিয়ে সহজে ঘুরে আসতে পারেন সেগুলো হলোঃ

১. বাঘা মসজিদের বিশাল দীঘি

মসজিদের একেবারে পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক বিশাল দীঘি। পরিবার নিয়ে কিছুটা সময় এখানে বসে চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করা যায়। শীতকালে অতিথি পাখির আনাগোনা থাকায় তখন দীঘিপাড়ের দৃশ্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

২. বাঘা জাদুঘর

ইতিহাসপ্রেমী পরিবারগুলোর জন্য বাঘা জাদুঘর হতে পারে আকর্ষণীয় একটি স্থান। এখানে বাঘা অঞ্চলের পুরাকীর্তি ও মুসলিম স্থাপত্যের বিভিন্ন নিদর্শন প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। মসজিদ ও দীঘি দেখার পাশাপাশি জাদুঘর ঘুরে দেখলে ভ্রমণটি আরও জ্ঞানসমৃদ্ধ হবে। 

৩. উৎসব পার্ক

শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণ করলে উৎসব পার্ক রাখা যেতে পারে তালিকায়। বাঘা উপজেলা সদরের কাছেই অবস্থিত এই পার্কে সবুজ পরিবেশের পাশাপাশি শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাঘা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে রিকশা বা সিএনজিতে সেখানে যাওয়া যায়। 

৪. ক্ষ্যাপার বাবার আশ্রম

আড়ানী এলাকার বড়াল নদীর তীরে অবস্থিত ক্ষ্যাপার বাবার আশ্রমও বাঘা উপজেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি। বাঘা থেকে অটোরিকশায় যাওয়া যায়। আড়ানী রেলস্টেশন থেকেও আশ্রমে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

রাজশাহী থেকে বাঘা মসজিদ যাওয়ার উপায় ও ভাড়া 

রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও বিস্তারিত জানতে এবং দেখতে আপনাকে প্রথমে রাজশাহীতে আসতে হবে রাজশাহীর রেল স্টেশন এবং বাসট্যান্ড পাশাপাশি তাই আপনি এখান থেকে বাঘা উপজেলা যাওয়ার জন্য সড়ক এবং রেলপথ যে কোন একটি নির্বাচন করতে পারেন তবে সবচেয়ে ভালো হবে সড়ক পথ নির্বাচন করা কম খরচে বাধা উপজেলা যাওয়ার জন্য বাসে উঠতে পারেন আবার একটু আরাম করে যাওয়ার জন্য আপনি চার্জার রিক্সা অথবা সিএনজি রিকশা রিজার্ভ করে নিতে পারেন তবে এখানে খরচ একটু বেশি হবে। 

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম 

আপনি বাসে গেলে বাঘা উপজেলা যাওয়ার পর বাস আপনাকে নির্ধারিত স্থানে নামিয়ে দিবে সেখান থেকে চার্য রিক্সা অথবা সিএনজি রিক্সার মাধ্যমে বাঘা শাহী মসজিদে যেতে পারবেন, এক্ষেত্রে আপনি যদি রাজশাহী থেকে রিজার্ভ চার্জার রিক্সা অথবা সিএনজি রিকশা নিতে পারেন তাহলে একেবারে নির্বিঘ্নে বাঘে মসজিদে গিয়ে নামতে পারবেন প্রয়োজন হলে সেই সাথে আবার চলে আসতে পাবেন। 

বর্তমান বাস ভাড়া কত 

রাজশাহী থেকে বাঘা রুট এর বাস ভাড়া সম্প্রতি সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ থেকে রাজশাহী থেকে বাঘা রুটের ভাড়া ৯০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। অপরদিকে সিএনজি এবং অটো রিক্সার ভাড়া এটা আপনাকে নিজ থেকে ঠিক করে নিতে হবে। ভাড়া মিটমাট হওয়ার পরে, যাত্রা শুরু করা সবচেয়ে ভালো। না হলে গন্তব্য স্থানে গিয়ে ভাড়া মেটাতে ঝামেলা হতে পারে

রাজশাহী শহরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

রাজশাহী বাঘা মসজিদের ভ্রমণকে আরও অর্থবহ করতে হলে রাজশাহী শহরের ইতিহাস সম্পর্কে সামান্য ধারণা থাকা ভালো। রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায় যেমন আমাদের একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক স্থানে নিয়ে যায়, তেমনি রাজশাহী শহর নিজেও দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক। রাজশাহী অঞ্চল প্রাচীন পুন্ড্রবর্ধন জনপদের অংশ ছিল। বিভিন্ন সময়ে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন, মুঘল ও ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব এই অঞ্চলে পড়েছে। রাজশাহী পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এবং রেশম, আম, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য পরিচিত। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, যা ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই বাঘা যাওয়ার আগে বা পরে রাজশাহী শহরের কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান দেখে নিলে আমাদের পুরো ভ্রমণটি আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।

রাজশাহী শহরের ভেতরে একদিনের ট্যুর প্ল্যান

আপনি যদি রাজশাহী শহরে একদিন সময় পান, তাহলে রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও বিস্তারিত দেখার সঙ্গে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেখে নিতে পারেন। তবে বাঘা ও শহরের দূরত্ব এবং যাতায়াতের সময় বিবেচনা করে খুব বেশি জায়গা একদিনে রাখবেন না। আপনার ট্যুর প্ল্যান এমন ভাবে সাজালে একদিনে রাজশাহীর অনেক কিছু দর্শনীয় স্থান দেখতে পারবেন।

সকালঃ

সকালটা রাজশাহীর খুই পরিচিত এবং দর্শনার্থী প্রিয় “টি” বাধ এবং “আই” বাধ দেখে মুক্ত মঞ্চে ঘুরতে পারেন। সকালের হীমেল হাওয়ায় আপনার মন জুড়িয়ে যাবে। পদ্মার দিনের প্রকৃতির এব অপুর্ব মায়ায় আপনাকে অসম্ভব সুন্দর এক অনুভুতি এন দেবে। এরপর  বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর যেতে পারেন। জাদুঘরটি রাজশাহী শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রত্নসম্পদ ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালা। 

এরপরঃ বাঘার উদ্দেশ্যে যাত্রা

আরও পড়ুনঃ চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার ৬টি ঘরোয়া উপায় 

দুপুরঃ 

বাঘায় পৌঁছে প্রথমে বাঘা শাহী মসজিদ দেখুন। এরপর সময় থাকলে বাঘা জাদুঘর ও মসজিদের পাশের দীঘি ঘুরে দেখতে পারেন। অবশ্যই মনে রাখবেন এখানে ছবি তোলার সময় স্থাপনার গায়ে ওঠা, কারুকাজ স্পর্শ করা বা কোনো পুরাকীর্তির ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন।

এরপরঃ রাজশাহী শহরে ফেরা

বিকেলঃ 

রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায় অনুসরণ করে বিকেলের মধ্যে রাজশাহী শহরের দিকে রওনা দিলে  এবং শাহ মখদুম (রাঃ) এর মাজার দেখতে পারেন।

সন্ধ্যাঃ

সময় ও আবহাওয়া অনুকূল থাকলে পদ্মার পাড়ে কিছু সময় কাটাতে পারেন। দিনের ভ্রমণ শেষে এখানে বসে সূর্যাস্ত বা নদীর পরিবেশ উপভোগ করা যেতে পারে। সন্ধ্যার পর শহরের পদ্মার পাড়ের পরিবেশ খুবই রোমাঞ্চকর হয়। নানা বয়সের মানুষ আসে এখানে সন্ধর পরিবেশ উপভোগ করার জন্য। চাইলে পদ্মা গার্ডেনের পার্কেও ঘুরতে পারেন।

রাতঃ

পদ্মা গার্ডেনের বিভিন্ন প্রকার মুখোরোচক খাবার যেমন, বিভিন্ন প্রকারের ফুসকা, চটপটি, হরেক রকমের আচার, সবাই প্রিয় পেয়ারা মাখা, চুইঝাল এর ঝালমুড়ি আপনাকে আকর্ষণ করবেই। সন্ধার পর আগত সাধারণ  মানুষ এবং বিভিন্ন শিক্ষার্থীর গনের আড্ডা ও পাখির কলকাকুলি আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

ভ্রমণের আগে যেসব বিষয় মনে রাখবেন

  • রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও বিস্তারিত জানার পাশাপাশি বাস্তব ভ্রমণে কয়েকটি ছোট বিষয় আপনার কাজে আসবে।
  • বাসভাড়া যাত্রার দিন অবশ্যই জেনে নিন। 
  • বাঘা বাস টার্মিনাল থেকে মসজিদে স্থানীয় রিকশা বা ভ্যান ব্যবহার করতে পারেন।
  • গরমের দিনে পানি সঙ্গে রাখুন।
  • শিশু ও বয়স্কদের সঙ্গে নিয়ে গেলে দুপুরের প্রচণ্ড রোদ এড়িয়ে চলুন।
  • মসজিদ ও মাজার এলাকায় ধর্মীয় পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখান।
  • টেরাকোটা বা পুরাকীর্তির কোনো অংশ স্পর্শ করবেন না।
  • মেলার সময় ভ্রমণে গেলে অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
  • যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মেলা বা কোনো বিশেষ আয়োজনের সময়সূচি নিশ্চিত করে নিন।

শেষ কথাঃ রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায়

একটি ভ্রমণকে সুন্দর করতে শুধু গন্তব্যের ছবি দেখলেই হয় না, সেই জায়গার ইতিহাস, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং আশপাশের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে অভিজ্ঞতাটি অনেক ভালো হয়। রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায় সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানা থাকলে আপনি নিজের মতো করে একটি সহজ দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারবেন। রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও বিস্তারিত দেখলে বুঝতে পারবেন, এটি শুধু পুরোনো একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এর টেরাকোটা, গম্বুজ, মেহরাব, দীঘি, মাজার ও আশপাশের ঐতিহ্য মিলিয়ে এটি রাজশাহীর ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সবশেষে রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও বিস্তারিত পড়ার পর আপনি যদি ভ্রমণে যান, আমাদের পরামর্শ থাকবে, সময় নিয়ে স্থাপনাটির কারুকাজ দেখুন, স্থানীয় ঐতিহ্যকে সম্মান করুন এবং কোনো পুরাকীর্তির ক্ষতি না করে স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলুন। এভাবেই রাজশাহী বাঘা মসজিদের ইতিহাস ও যাওয়ার বিস্তারিত উপায় জানা আপনার ভ্রমণকে শুধু আনন্দদায়ক নয়, জ্ঞানসমৃদ্ধও করে তুলতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অলইনফোনেষ্ট এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url