শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায়

শিশু কে রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায়


আপনার শিশুকে সুস্থ ও রোগের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে শুধু ঔষুধ নয়, প্রয়োজন সঠিক যত্ন, পুষ্টিকর খাবার, সময়মতো টিকা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। শিশু কে রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায় নিয়ে এই পোষ্টে বিস্তারিত আলোচনায় থাকছে শিশুর অসুস্থ হওয়ার সাধারণ কারণ, সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়, বুকের দুধ ও পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব, বিশুদ্ধ পানি, হাত ধোয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, খেলাধুলা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন

 পরিবেশ নিশ্চিত করার সহজ উপায়। পাশাপাশি কোন কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, তাও সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। আপনার শিশুর দৈনন্দিন যত্নে ছোট ছোট পরিবর্তন কীভাবে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে পারে, তা জানতে পুরো লেখাটি পড়ুন।

পোষ্ট সূচিপত্রঃ শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায়

আপানার শিশু যখন হাসে, খেলতে চায়, ভালোভাবে খায় এবং নিজের মতো করে নতুন কিছু শিখতে থাকে, তখন একজন অভিভাবকের হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের বিষয় আপনার খুব কমই আছে। কিন্তু ছোট শিশুরা হঠাৎ জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা বা নানা ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে। তাই শিশুর যত্ন শুধু অসুস্থ হওয়ার পর শুরু করলে হবে না, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের মধ্যেই সুস্থ থাকার ভিত্তি তৈরি করতে হবে। শিশু কে রোগমুক্ত রাখার উপায় জানতে গিয়ে অনেক অভিভাবক শুধু ঔষুধ, ভিটামিন বা বিশেষ খাবারের কথা ভাবেন। বাস্তবে শিশুর সুস্থতার সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, টিকা, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিষ্কার পরিবেশ, ভালোবাসা এবং সময়মতো চিকিৎসা সবকিছুর সম্পর্ক আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য পুষ্টি, টিকাদান, পরিচ্ছন্ন পানি ও স্যানিটেশন, নিরাপদ পরিবেশ এবং অসুস্থ হলে সময়মতো যত্নের ওপর গুরুত্ব দেয়।

আরও পড়ুন: উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায়

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। শিশু কে রোগমুক্ত রাখার উপায় নিয়ে ভাবার সময় আপনি মনে রাখবেন, রোগ প্রতিরোধের কাজটি প্রতিদিনের অভ্যাস থেকেই শুরু হয়। “রোগমুক্ত” বলতে শিশু কখনোই অসুস্থ হবে না, বিষয়টি এমন নয়। শিশুদের মাঝে মাঝে সাধারণ অসুস্থতা হওয়া স্বাভাবিক। বাবা মায়ের লক্ষ্য থাকবে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকি কমানো, শিশুর শরীরকে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া।

শিশু কেন অসুস্থ হয়

শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায় জানতে প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে শিশুরা কেন অসুস্থ হয়। শিশুরা বড়দের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল। বিশেষ করে ছোট বয়সে তাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনও বিকাশের মধ্যে থাকে। তাই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এলে সহজেই সর্দি-কাশি, জ্বর বা পেটের সংক্রমণ হতে পারে। এর সঙ্গে যদি হাত না ধোয়া, অপরিষ্কার পানি, দূষিত খাবার, ধোঁয়া, মশা বা অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শ যুক্ত হয়, তাহলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। শিশুর খাবারের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পেলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। শিশুর জন্মের প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ; WHO ও UNICEF প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ এবং ছয় মাসের পর উপযুক্ত পরিপূরক খাবারের সঙ্গে বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

আরেকটি বড় কারণ হলো পরিচ্ছন্নতার অভাব। শিশুরা খেলতে গিয়ে নানা জিনিসে হাত দেয় এবং পরে সেই হাত মুখে দিতে পারে। যেকোন খাবারের আগে বা টয়লেট ব্যবহারের পর হাত সঠিক ভাবে পরিষ্কার না করলে জীবাণু শরীরে ঢোকার সুযোগ পায়। নিয়মিত জীবানুনাশক দিয়ে হাত ধোয়া অভ্যাস, শ্বাসতন্ত্রের কিছু সংক্রমণ ও ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। ঘরের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপানের ধোঁয়া, অতিরিক্ত ধুলা, অপরিষ্কার পানি, জমে থাকা ময়লা বা মশার উপদ্রব শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু শিশুকে পরিষ্কার রাখলেই হবে না, শিশুর বেড়ে উঠার চারপাশটাকেও নিরাপদ ও জীবানুমুক্ত রাখতে হবে।

এ ছাড়া ঘুমের অভাব, অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত স্ক্রিনে সময় কাটানো, শারীরিক খেলাধুলার অভাব এবং পরিবারের অতিরিক্ত মানসিক চাপও শিশুর সামগ্রিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু কে রোগমুক্ত রাখার উপায় বলতে এসব বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

শিশুর বয়স অনুযায়ী যত্ন আলাদা কেন?

শিশু কে রোগমুক্ত রাখাতে আপনি বয়সভিত্তিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন। নবজাতক শিশুর নিয়ম একরকম, স্কুলগামী শিশুর নিয়ম অন্যরকম। নবজাতক শিশু, ছয় মাসের শিশু, এক বছরের শিশু এবং স্কুলগামী শিশুর প্রয়োজন এক নয় অবশ্যই ভিন্ন। নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রে বুকের দুধ, নিরাপদ পরিচর্যা ও টিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং ছয় মাসের পর খাবারের শিশুর বৈচিত্র্য বাড়াতে হয়। একটু বড় হলে হাত ধোয়া, দাঁত পরিষ্কার, খেলাধুলা ও নিরাপত্তার অভ্যাস শেখাতে হবে। তাই শিশু কে রোগমুক্ত রাখাতে আপনি প্রথমে শিশুর বয়স ও প্রয়োজন বুঝে আপনি এবং আপনার পরিবারের সাবাই মিলে সহজেই পালন করাযায় এমন একটি রুটিন তৈরি করুন এবং সেটা মেনে চলার চেষ্ট করুন, দেখবেন আপনার শিশুর সাধারণ ছোটছোট রোগ হবেনা।

শিশুর বিভিন্ন রোগের লক্ষণ

শিশু অসুস্থ হলে, সব সময় নিজের মুখে সমস্যার কথা বলতে পারে না। তাই অভিভাবক হিসেবে শিশুর আচরণ ও শরীরের পরিবর্তন লক্ষ্য করা জরুরি। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কান্না, খেতে না চাওয়া, খেলাধুলায় আগ্রহ কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, জ্বর, কাশি, বমি, পাতলা পায়খানা বা শরীরে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সাধারণ কোনো লক্ষণ দেখলেই আপনাকে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এইসব লক্ষণ কতক্ষণ ধরে আছে, বাড়ছে কি না, শিশু পানি বা বুকের দুধ খেতে পারছে কি না এবং স্বাভাবিকভাবে সাড়া দিচ্ছে কি না এসব খেয়াল করুন। আপনার শিশু কে রোগমুক্ত এই পর্যবেক্ষণের অভ্যাস আপনাকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

বিশেষ করে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, খুব দ্রুত বা অস্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া, খেতে বা পান করতে না পারা, বারবার সবকিছু বমি করে ফেলা, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে। WHO শিশুদের গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে এসবকে বিপদের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করে। ডায়রিয়া হলে পানিশূন্যতার লক্ষণ আছে কি না খেয়াল করুন। শিশু খুব দুর্বল হয়ে পড়লে, প্রস্রাব কমে গেলে, চোখ বসে গেলে বা পানি খেতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। বয়স কম হলে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে। জ্বরের ক্ষেত্রে শুধু তাপমাত্রার সংখ্যা নয়, শিশুর সামগ্রিক অবস্থাও দেখুন। শিশুর বয়স, জ্বরের স্থায়িত্ব এবং অন্য লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে খুব ছোট শিশুর জ্বরকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

শিশু কে রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায়

১. সময়মতো টিকা দিন

শিশু কে রোগমুক্ত রাখার উপায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলোর একটি হলো বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা সময়মতো দেওয়া। টিকা শিশুকে বিভিন্ন গুরুতর ও প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। তাই টিকার কার্ড বা রেকর্ড নিরাপদে রাখুন এবং পরবর্তী ডোজের তারিখ মনে রাখুন। কোনো কারণে একটি টিকা নির্ধারিত সময়ে দেওয়া না হলে নিজের মতো করে সূচি পরিবর্তন করবেন না। স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরবর্তী করণীয় জেনে নিন। টিকা শুধু নিজের শিশুর জন্য নয়, সমাজে সংক্রমণ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শিশুদের বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষার জন্য পরিচালিত হচ্ছে।

২. বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার দিন

শিশুর শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। ছয় মাস পর্যন্ত শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাসের পর বয়স উপযোগী পরিপূরক খাবার শুরু করতে হয় এবং খাবারে ধীরে ধীরে বৈচিত্র্য আনা দরকার। বড় শিশুর খাবারে শাকসবজি, ফল, ডিম, মাছ, ডাল, দুধ বা উপযুক্ত বিকল্পসহ বিভিন্ন খাদ্যগোষ্ঠী রাখার চেষ্টা করুন। একই খাবার প্রতিদিন না দিয়ে বৈচিত্র্য আনুন। অতিরিক্ত মিষ্টি, খুব বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস কমিয়ে ঘরের পুষ্টিকর খাবারকে গুরুত্ব দিন।

৩. হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন

শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায় এর মধ্যে শিশুর হাত পরিষ্কার রাখা ছোট একটি কাজ হলেও এর গুরুত্ব অনেক। আপনি শিশুকে শুধু “হাত ধুয়ে নাও” বললে সব সময় কাজ নাও হতে পারে। বরং নিজে সামনে থেকে করে দেখান এবং হাত ধোয়ার সময়টি নিয়মিত করে ফেলুন। খাবারের আগে, টয়লেট ব্যবহারের পরে এবং বাইরে থেকে ফেরার পর সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করান। ছোট শিশু হলে আপনি তাকে সাহায্য করুন। CDC-এর মতে, নিয়মিত হাত ধোয়া জীবাণুর বিস্তার কমাতে এবং ডায়রিয়া ও কিছু শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক।

৪. বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করুন

পানি ও খাবারের মাধ্যমে নানা জীবাণু শিশুর শরীরে ঢুকতে পারে। তাই শিশুকে নিরাপদ পানি পান করান এবং খাবার পরিষ্কারভাবে তৈরি ও সংরক্ষণ করুন। কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখার অভ্যাস করুন। খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে পরে শিশুকে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। ছোট শিশু কে রোগমুক্ত রাখাতে শিশুর খাবার তৈরির সময় আপনার হাত ও রান্নার পাত্র পরিষ্কার রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাসের পর পরিপূরক খাবার শুরু হলে খাবারের পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপদ সংরক্ষণকে প্রতিদিনের রুটিনের অংশ করুন।

৫. ঘর ও শিশুর আশপাশ পরিষ্কার রাখুন

পরিষ্কার ঘর মানে শুধু মেঝে ঝাড়ু দেওয়া নয়। শিশু কে রোগমুক্ত রাখার উপায় বাস্তবায়ন করতে হলে শিশুর নিয়মিত স্পর্শ করা জায়গাগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে। শিশুর বিছানা, বালিশের কভার, তোয়ালে, খেলনা, পড়ার টেবিল এবং যেসব জিনিস সে নিয়মিত স্পর্শ করে সেগুলোও পরিষ্কার রাখতে হবে। ঘরে ময়লা জমিয়ে রাখবেন না। রান্নাঘর ও বাথরুম পরিষ্কার রাখুন। মশার প্রজননের জায়গা তৈরি হয় এমন জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলুন। ঘরে ধূমপান একেবারেই না করাই ভালো। পরিষ্কার বাতাস, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন শিশুর সুস্থ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৬. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করুন

শিশুর বয়স অনুযায়ী ঘুমের প্রয়োজন আলাদা। তাই একটি নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন তৈরি করুন। ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত মোবাইল বা উত্তেজনামূলক ভিডিও গেম না দেখিয়ে শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন। রাতে ঘুম কম হলে অনেক শিশুর মেজাজ খিটখিটে হয় এবং দিনের স্বাভাবিক কাজেও সমস্যা করে তাই আপনি শিশুর ঘুমের সময়কে অন্য কাজের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করবেন না। দিনের বেলায় বয়স উপযোগী খেলাধুলা এবং রাতে নিয়মিত ঘুম এই ভারসাম্য শিশুর দৈনন্দিন রুটিনকে সুন্দর করে।

৭. শিশুকে খেলাধুলা ও নড়াচড়ার সুযোগ দিন

শিশু শুধু বই পড়ে বা মোবাইল দেখে বড় হয় না। খেলাধুলা তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বয়স অনুযায়ী নিরাপদ খেলাধুলা, হাঁটা, দৌড়ানো, বল খেলা বা বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ দিন। শিশু কে রোগমুক্ত রাখাতে খেলাধুলার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। শিশু যদি সব সময় বসে থাকে, তাহলে তার দৈনন্দিন নড়াচড়া কমে যেতে পারে। তাই শিশু কে রোগমুক্ত রাখাতে আপনি প্রতিদিন এমন সময় রাখুন, যখন সে নিরাপদভাবে খেলতে, নড়াচড়া করতে এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করতে পারে। WHO শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য শেখা, খেলা, নিরাপত্তা ও যত্নশীল পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে।

৮. সর্দি-কাশি ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিন

পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে শিশুর কাছে খুব ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের প্রয়োজন আছে কি না তা বিবেচনা করুন। হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, হাত পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিশুকে সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে রাখা উপকারী। শিশুর সামনে কেউ ধূমপান করবেন না। বাইরে থেকে এসে হাত পরিষ্কার না করে শিশুকে কোলে নেওয়া বা খাবার ধরার অভ্যাসও এড়িয়ে চলুন। শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায় হিসেবে শিশুর নিজের তোয়ালে, পানির বোতল বা খাবারের পাত্র অন্যের সঙ্গে ভাগ না করাই ভালো, বিশেষ করে কেউ অসুস্থ থাকলে।

৯. শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি শিশুর মনও ভালো থাকা দরকার। প্রতিদিন কিছু সময় শিশুর সঙ্গে কথা বলুন, তার কথা শুনুন, খেলুন এবং তার প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল করলে সব সময় বকাঝকা না করে কীভাবে ভালোভাবে করা যায় তা বোঝান। নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ শিশুর আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক বিকাশে সহায়তা করে। WHO-এর Nurturing Care ধারণাতেও শিশুর নিরাপত্তা, সাড়া দেওয়া, শেখার সুযোগ এবং সুস্থতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশু কে রোগমুক্ত তাই খাবার ও পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি শিশুর সঙ্গে আপনার আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। রোগমুক্ত শিশু শুধু কম অসুস্থ হওয়া নয়, আনন্দে বেড়ে ওঠার সুযোগও পাওয়া উচিত।

১০. অসুস্থ হলে দ্রুত সঠিক পরামর্শ নিন

শিশুর জ্বর, কাশি, বমি, ডায়রিয়া বা অন্য কোনো সমস্যা হলে বয়স ও লক্ষণ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিচিত কারও পরামর্শে নিজের মতো করে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ শুরু করবেন না। অপ্রয়োজনীয় ওষুধ শিশুর ক্ষতি করতে পারে এবং সঠিক রোগ নির্ণয় দেরি হতে পারে। অসুস্থ অবস্থায় শিশুকে পর্যাপ্ত তরল, বয়স উপযোগী খাবার এবং বিশ্রামের সুযোগ দিন, তবে চিকিৎসকের নির্দেশনা থাকলে সেটিই অগ্রাধিকার পাবে। কোনো লক্ষণ গুরুতর মনে হলে ঘরোয়া উপায়ে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। WHO-ও অসুস্থ শিশুর ক্ষেত্রে বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। শিশু কে রোগমুক্ত রাখতে মুখ ও দাঁতের পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দেওয়া দরকার। শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায় হিসেবে শিশুর বয়স অনুযায়ী নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং মিষ্টি খাবার বিশেষ করে চকলেটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।

শিশু কে রোগমুক্ত রাখাতে মায়ের নিজের যত্ন

একটি শিশু কে রোগমুক্ত রাখার দায়িত্ব নিতে গিয়ে অনেক মা নিজের যত্নের কথা ভুলে যান। অথচ শিশু কে রোগমুক্ত রাখাতে মায়ের নিজের যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা সরাসরি শিশুর যত্ন, খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও দৈনন্দিন নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে ছোট শিশুর ক্ষেত্রে মায়ের পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, বিশুদ্ধ পানি পান এবং নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের নিজের পুষ্টির দিকেও বাড়তি নজর দিতে হবে। ডাল, মাছ, ডিম, দুধ বা উপযুক্ত বিকল্প, শাকসবজি, ফল এবং পর্যাপ্ত পানি প্রতিদিনের খাবারে রাখার চেষ্টা করা উচিত। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তি, দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা বা ঘুমের ঘাটতি অবহেলা করা ঠিক নয়। তাই শিশু কে রোগমুক্ত রাখার জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদেরও শিশুর মাকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন, যাতে তিনি কিছুটা বিশ্রাম ও নিজের প্রয়োজনীয় কাজের সময় পান। শিশুর যত্ন নিতে গিয়ে মা অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুর নিয়মিত পরিচর্যাও ব্যাহত হতে পারে। 

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায়

তাই মায়ে নিজের কোনো অসুস্থতা, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা মানসিক চাপ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায় এর মধ্যে মায়ের হাত পরিষ্কার রাখা, খাবার তৈরির আগে ও শিশুকে খাওয়ানোর আগে হাত ধোয়া এবং ঘর ধোঁয়ামুক্ত রাখা মায়ের পাশাপাশি শিশুকেও সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। মনে রাখতে হবে, একজন মা সুস্থ ও স্বস্তিতে থাকলে তিনি শিশুর প্রয়োজনগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং পূরণ করতে পারেন। তাই শিশুর সুস্থতার পরিকল্পনায় মায়ের যত্নকে কখনোই আলাদা বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। শিশু কে রোগমুক্ত রাখাতে মায়ের নিজের যত্ন আসলে পুরো পরিবারের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিশু কে কখন ডাক্তার দেখাবেন

শিশু অসুস্থ হলেই ভয় পাওয়ার দরকার নেই, কিন্তু কিছু লক্ষণ কখনো অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে শিশু যদি স্বাভাবিকভাবে খেতে বা পান করতে না পারে, অস্বাভাবিকভাবে ঘুমঘুম বা নিস্তেজ হয়ে যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, খিঁচুনি হয়, বারবার সবকিছু বমি করে, অথবা আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। WHO  (World Health Organization) এর শিশুস্বাস্থ্য নির্দেশনায় এসবের কয়েকটিকে গুরুতর বিপদের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। খুব ছোট শিশুর ক্ষেত্রে জ্বর বা খাওয়ার সমস্যাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। আবার দীর্ঘদিন ধরে কাশি, বারবার জ্বর, ওজন না বাড়া, বারবার ডায়রিয়া, খাবারে দীর্ঘস্থায়ী অনীহা বা বিকাশে কোনো উদ্বেগ থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

আপনি শিশুর আগের স্বাস্থ্য ইতিহাস, টিকার রেকর্ড এবং বর্তমানে কী কী লক্ষণ আছে এসব চিকিৎসককে পরিষ্কারভাবে জানালে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। নিজের ধারণায় রোগের নাম ঠিক করে ওষুধ দেওয়ার বদলে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। শিশুর যত্ন করতে গিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোনো একটি টিপসকে অলৌকিক সমাধান মনে না করা। নিয়মিত যত্ন, টিকাদান, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা সবগুলো একসঙ্গে কাজ করে।

প্রতিদিনের ছোট স্বাস্থ্যকর রুটিন

শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার জন্য প্রতিদিনের একটি সহজ রুটিন তৈরি করা খুব কাজে দেয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ও হাত পরিষ্কার করা, বয়স অনুযায়ী নাশতা দেওয়া এবং কিছুটা নড়াচড়ার সুযোগ রাখা যেতে পারে। দিনের মধ্যে শিশুকে নিয়মিত পানি বা বয়স উপযোগী তরল দেওয়ার বিষয়টি খেয়াল করুন। খাবারের আগে ও পরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস মনে করিয়ে দিন। বিকেলে বয়স অনুযায়ী খেলাধুলা বা বাইরে নিরাপদভাবে সময় কাটানোর সুযোগ দিন। খেলতে গিয়ে শিশুর পোশাক বা হাত ময়লা হলে পরিষ্কার করে দিন। রাতে ঘুমের আগে দাঁত পরিষ্কার, প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং শান্ত পরিবেশের অভ্যাস গড়ে তুলুন। ছোট শিশুর ক্ষেত্রে অভিভাবকের সাহায্য দরকার হবে। বড় হলে ধীরে ধীরে তাকে নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস শেখানো যায়।

শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায় হিসেবে সপ্তাহে অন্তত একবার শিশুর ব্যবহারের খেলনা, বিছানার চাদর, তোয়ালে এবং বেশি স্পর্শ করা জায়গাগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। টিকার রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কাগজপত্রও গুছিয়ে রাখুন। এই ছোট রুটিনগুলো নিয়মিত হলে আপনার জন্য শিশুর দৈনন্দিন পরিবর্তন বোঝাও সহজ হবে। কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে আপনি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন।

শৈশব অসুস্থতা প্রতিরোধের জন্য টিপস

শিশুকে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো প্রতিদিনের অভ্যাসকে স্বাস্থ্যকর করা। কোনো একটি খাবার বা একটি অভ্যাস দিয়ে সব রোগ ঠেকানো যায় না। বরং কয়েকটি সহজ ব্যবস্থা একসঙ্গে মেনে চললে শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখার সুযোগ বাড়ে। 

শিশু কে রোগমুক্ত রাখাতে প্রথমেই টিকার বিষয়টি গুরুত্ব দিন। শিশু কে রোগমুক্ত রাখার উপায়গুলোর মধ্যে টিকাদান এমন একটি পদক্ষেপ, যার সময়সূচি অবহেলা করা ঠিক নয়। শিশুর বয়স অনুযায়ী জাতীয় টিকাদান সূচি অনুসরণ করা উচিত। কোনো টিকা বাদ পড়ে গেলে কীভাবে পরবর্তী ডোজ দেওয়া হবে, তা স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।

আরও পড়ুন: শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায়

খাবারের ক্ষেত্রে শিশুর বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাবার দিন। শুধু পেট ভরলেই হবে না, খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি আছে কি না সেটিও দেখতে হবে। ছয় মাসের পর পরিপূরক খাবার শুরু করলে পরিষ্কার হাত, পরিষ্কার পাত্র এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা জরুরি।

হাত ধোয়ার অভ্যাসকে পরিবারের নিয়ম বানিয়ে ফেলুন। আপনি নিজে নিয়ম মেনে হাত ধুলে শিশুও তা অনুসরণ করতে শিখবে। খাবারের আগে, টয়লেট ব্যবহারের পরে, বাইরে থেকে এসে এবং ময়লা জিনিস ধরার পর হাত পরিষ্কার করার অভ্যাস করানো ভালো।

শিশুকে পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ দিন। বয়স অনুযায়ী ঘুমের প্রয়োজন আলাদা হতে পারে, তাই শিশুর বয়স, দৈনন্দিন কাজ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঘুমের রুটিন ঠিক করুন। পাশাপাশি বয়স উপযোগী খেলাধুলা ও নড়াচড়ার সুযোগ দিন।

ঘরে ধূমপান না করা, পরিষ্কার পানি ব্যবহার করা, খাবার ঢেকে রাখা, মশার বংশবিস্তার কমানো এবং শিশুর খেলনা ও ব্যবহারের জিনিস নিয়মিত পরিষ্কার করা এসবও প্রতিরোধের অংশ।

রোগমুক্ত শিশু মানে শুধু রোগ না হওয়া নয়, বরং শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতাকেও গুরুত্ব দেওয়া।

শেষ কথাঃ শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায়

শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার পেছনে বড় কোনো জাদুকরী নিয়ম নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাসই ধীরে ধীরে বড় পার্থক্য তৈরি করে। সময়মতো টিকা, পুষ্টিকর খাবার, বিশুদ্ধ পানি, হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত ঘুম, খেলাধুলা, মানসিক নিরাপত্তা এবং অসুস্থতার সময় দ্রুত সঠিক পরামর্শ এসবই শিশুর সুস্থতার ভিত্তি। শিশু কে রোগমুক্ত রাখাতে আপনি আজ থেকেই খুব সহজ কয়েকটি নিয়ম শুরু করতে পারেন। খাবারের আগে হাত ধোয়া, টিকার তারিখ লিখে রাখা, শিশুর খাবার পরিষ্কারভাবে তৈরি করা এবং প্রতিদিন কিছুটা সময় খেলাধুলার জন্য রাখা এসবের জন্য বড় কোনো খরচ লাগে না, বরং নিয়মিত অভ্যাসই এখানে সবচেয়ে বড় শক্তি।

মনে রাখবেন, শিশু কে রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায় মেনে চললেও শিশু কে রোগমুক্ত মানে কখনোই অসুস্থ হবে না এমন নিশ্চয়তা নয়। শিশুরা কখনো না কখনো সাধারণ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। আমাদের কাজ হলো ঝুঁকি কমানো, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করা এবং বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করা। সঠিক যত্নে একটি সুস্থ শিশু শুধু রোগের ঝুঁকি কমিয়ে নয়, আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় ও আনন্দময় পরিবেশেও বেড়ে উঠতে পারে। তাই শিশু কে রোগমুক্ত রাখার উপায় আজকের যত্নকে ভবিষ্যতের সুস্থতার বিনিয়োগ হিসেবে দেখুন। আপনার সচেতনতা, ভালোবাসা এবং নিয়মিত যত্নই শিশুর জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সুরক্ষাগুলোর একটি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অলইনফোনেষ্ট এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url