উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। জানুন উচ্চ রক্তচাপ কেন হয়, কোন লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন, কীভাবে নিয়মিত রক্তচাপ মাপবেন এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি থাকছে লবণ খাওয়ার সঠিক পরিমাণ, স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন, নিয়মিত হাঁটা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ
পোষ্ট সূচিপত্রঃ উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
- হাই প্রেসার রোগীর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ খাবার
- হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিক করণীয়
- প্রেসার কমাতে প্রতিদিন রসুনের সঠিক ব্যবহার
- তেঁতুলের পানি দিয়ে দ্রুত প্রেসার কমানো
- সুস্থ থাকতে প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত
- প্রতিদিনের জীবনে আরও ৮টি সহজ অভ্যাস
- কখন শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করবেন না?
- শেষ কথাঃ উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
আরও পড়ুন: একটানা কম্পিউটারে কাজ করে চোখের সমস্যা? চোখের যত্নে ১৫টি করনীয় কাজ
হাই প্রেসার রোগীর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ খাবার
“সম্পূর্ণ
নিষিদ্ধ” কথাটি
শুনলে
মনে
হতে
পারে
প্রেসারের
রোগীকে
অনেক
খাবারই
চিরতরে
বাদ
দিতে
হবে।
বাস্তবে
সবার
জন্য
একই
খাবার
সম্পূর্ণ
নিষিদ্ধ
এমন
তালিকা
নেই।
তবে
কিছু
খাবার
যতটা
সম্ভব
এড়ানো
বা
কঠোরভাবে
সীমিত
করা
ভালো, বিশেষ
করে
যেসব
খাবারে
সোডিয়াম
বা
লবণ
বেশি
থাকে।
অতিরিক্ত
সোডিয়াম
রক্তচাপ
বাড়াতে
পারে।
প্রেসার
কমানোর
প্রাকৃতিক
উপায়
হিসেবে
প্রথমেই
আপনার
রান্নাঘরের
লবণের
ব্যবহার
খেয়াল
করুন।
১. অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার
খাবারের
ওপর
আলাদা
করে
লবণ
ছিটিয়ে
খাওয়ার
অভ্যাস
বাদ
দিন।
রান্নার
সময়ও
পরিমাণ
কমান।
শুধু
টেবিলের
লবণ
নয়, প্যাকেটজাত
খাবার
ও
বিভিন্ন
সসের
মাধ্যমেও
প্রচুর
সোডিয়াম
শরীরে
যেতে
পারে।
২. চিপস ও নোনতা স্ন্যাকস
চিপস, চানাচুর, নোনতা
বিস্কুট
ও
অনুরূপ
প্যাকেটজাত
খাবারে
লবণ
অনেক
বেশি
থাকতে
পারে।
এগুলো
প্রতিদিনের
নাশতা
না
করে
ফল, Unsalted বাদাম
বা
অন্যান্য
স্বাস্থ্যকর
বিকল্প
বেছে
নিতে
পারেন।
৩. প্রক্রিয়াজাত মাংস
সসেজ, সালামি, বেকন
বা
অতিরিক্ত
লবণযুক্ত
প্রক্রিয়াজাত
মাংস
নিয়মিত
খাওয়া
এড়ানো
ভালো।
হৃদ্স্বাস্থ্যকর
খাদ্যাভ্যাসে
প্রক্রিয়াজাত
খাবার
কম
রাখার
পরামর্শ
দেওয়া
হয়।
৪. অতিরিক্ত আচার
আচারে
স্বাদ
বাড়াতে
অনেক
লবণ
ব্যবহার
করা
হয়।
তাই
প্রেসার
নিয়ন্ত্রণে
রাখতে
চাইলে
আচার
খুব
অল্প
পরিমাণে
খাওয়া
বা
এড়িয়ে
চলা
ভালো।
৫. অতিরিক্ত লবণযুক্ত সস
সয়া
সস, ফিশ
সস, ইনস্ট্যান্ট
নুডলসের
মসলা
বা
বিভিন্ন
রেডিমেড
সস
খাবারের
সোডিয়াম
বাড়িয়ে
দিতে
পারে।
খাবারের
লেবেল
দেখার
অভ্যাস
করুন।
এখানে
একটি
সহজ
নিয়ম
মনে
রাখতে
পারেন
প্রাকৃতিক
উপায়ে
প্রেসার
কমানো
মানে
শুধু
“কী
খাবেন” তা
নয়, বরং
“কোন
খাবার
কম
খাবেন” সেটিও
জানা।
হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিক করণীয়
হঠাৎ প্রেসারের মেশিনে বেশি রিডিং আসলে প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। একটি মাত্র বেশি রিডিং দিয়ে সবসময় পরিস্থিতি বোঝা যায় না। কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে বসে আবার সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপুন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও বেশি রিডিং এলে অন্তত এক মিনিট অপেক্ষা করে আবার মাপার পরামর্শ দেয়। প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে সেই মুহূর্তে তেঁতুলের পানি, রসুন বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান খেয়ে দ্রুত প্রেসার নামানোর চেষ্টা করা নিরাপদ সমাধান নয়।
কীভাবে
আবার
মাপবেন?
-
চেয়ারে
পিঠ
ঠেকিয়ে
বসুন।
-
দুই
পা
মেঝেতে
রাখুন।
-
হাত
টেবিল
বা
সমতলে
এমনভাবে
রাখুন
যাতে
তা
হৃদ্পিণ্ডের
কাছাকাছি
উচ্চতায়
থাকে।
-
কথা
না
বলে
কয়েক
মিনিট
শান্ত
থাকুন।
-
তারপর
আবার
রক্তচাপ
মাপুন।
যদি রক্তচাপ ১৮০/১২০ mmHg এর বেশি হয়, অন্তত এক মিনিট পর আবার মাপুন। দ্বিতীয়বারও একই রকম বেশি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার। আর এর সঙ্গে যদি বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পিঠে ব্যথা, অবশভাব বা দুর্বলতা, দৃষ্টির পরিবর্তন কিংবা কথা বলতে সমস্যা থাকে, তাহলে এটি জরুরি অবস্থা হতে পারে এবং অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে নিজের মতো করে অতিরিক্ত প্রেসারের ওষুধ খাওয়া বা অন্য কারও ওষুধ নেওয়া উচিত নয়।
প্রেসার কমাতে প্রতিদিন রসুনের সঠিক ব্যবহার
রসুন আমাদের রান্নার খুব পরিচিত একটি উপাদান। রসুন নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে এবং কিছু গবেষণায় রসুনের প্রস্তুতি উচ্চ রক্তচাপ সামান্য কমাতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে প্রমাণ সীমিত এবং এর প্রভাব প্রেসারের ওষুধের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করার মতো নয়। তাই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে রসুনকে একটি স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, “চিকিৎসা” হিসেবে নয়। আপনি রান্নায় স্বাভাবিক পরিমাণে রসুন ব্যবহার করতে পারেন। ডাল, সবজি, মাছ বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবারে রসুন যোগ করলে খাবারের স্বাদও বাড়ে এবং অতিরিক্ত লবণ দেওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে।
অনেকে খালি পেটে একসঙ্গে অনেকগুলো কাঁচা রসুন খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই যে বেশি কাঁচা রসুন খেলেই প্রেসার দ্রুত কমে যাবে। বেশি রসুন খেলে কারও কারও পেটের অস্বস্তি, গ্যাস বা মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। রসুনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্কতা দরকার, বিশেষ করে আপনি যদি নিয়মিত ওষুধ খান। প্রাকৃতিক উপায়ে প্রেসার কমানোর ক্ষেত্রে তাই রসুনকে খাবারের অংশ হিসেবে রাখাই বেশি বাস্তবসম্মত। রসুন খেয়ে প্রেসারের ওষুধ বন্ধ করার চিন্তা করবেন না।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায়
তেঁতুলের পানি দিয়ে দ্রুত প্রেসার কমানো
তেঁতুল আমাদের দেশে অত্যন্ত পরিচিত একটি খাবার। তেঁতুলের পানি নিয়ে অনেকের ধারণা আছে যে এটি খেলে দ্রুত প্রেসার কমে যায়। কিন্তু এই দাবিকে নিশ্চিত চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করার মতো শক্ত প্রমাণ নেই। কিছু গবেষণায় তেঁতুলের সঙ্গে রক্তচাপের সম্ভাব্য সম্পর্ক দেখা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, একটি ছোট ক্লিনিক্যাল গবেষণায় তেঁতুল খাওয়ার পর কিছু রক্তচাপের পরিবর্তন দেখা গেলেও নিয়ন্ত্রণ দলের সঙ্গে ফলাফল পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল না। গবেষকরা তেঁতুলের রক্তচাপ কমানোর প্রভাব নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত দেননি। আরেকটি পুরোনো ছোট মানব গবেষণায় তেঁতুলের কিছু প্রভাব দেখা গেলেও সেটিও দ্রুত প্রেসার কমানোর ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ নয়।
তাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে তেঁতুলের পানি পান করতে চাইলে সেটিকে সাধারণ খাবার বা পানীয় হিসেবে নিতে পারেন, কিন্তু এটিকে জরুরি অবস্থায় প্রেসার কমানোর ওষুধ ভাববেন না। বিশেষ করে তেঁতুলের শরবতে যদি প্রচুর চিনি ও লবণ মেশানো হয়, তাহলে সেটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প নাও হতে পারে। আপনি চাইলে অল্প তেঁতুল দিয়ে স্বাভাবিক স্বাদের পানীয় তৈরি করতে পারেন, তবে এর মাধ্যমে চিকিৎসা করার চেষ্টা করবেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা প্রাকৃতিক উপায়ে প্রেসার কমানো কখনোই জরুরি চিকিৎসার বিকল্প নয়।
সুস্থ থাকতে প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত
লবণ নিয়ে আমাদের অনেকেরই একটি ভুল ধারণা আছে “আমি তো খাবারে খুব বেশি লবণ দিই না, তাই আমার লবণ খাওয়া কম।” বাস্তবে খাবারে রান্নার সময় দেওয়া লবণের পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবার, আচার, সস, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং নোনতা স্ন্যাকস থেকেও সোডিয়াম আসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ৫ গ্রামের কম লবণ, অর্থাৎ প্রায় এক চা-চামচের কম লবণ খাওয়ার পরামর্শ দেয়। এই হিসাবের মধ্যে সারাদিনের সব উৎসের লবণ অন্তর্ভুক্ত। তাই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ করতে চাইলে লবণ কমানোকে আপনার দৈনন্দিন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অংশ করুন।
লবণ কমানোর সহজ কৌশল
- প্রথমত, খাবার টেবিলে আলাদা লবণের বাটি রাখবেন না।
- দ্বিতীয়ত, রান্নায় লবণ ধীরে ধীরে কমান। কয়েকদিন পর জিহ্বা কম লবণেও অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
- তৃতীয়ত, প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে Nutrition Facts বা লেবেলে Sodium-এর পরিমাণ দেখুন।
- চতুর্থত, লবণের বদলে খাবারে লেবু, ধনেপাতা, আদা, রসুন, গোলমরিচ বা অন্যান্য মসলা ব্যবহার করে স্বাদ বাড়াতে পারেন।
- পঞ্চমত, আচার, চানাচুর, চিপস ও অতিরিক্ত নোনতা খাবারকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন।
তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন শুধু লবণ কমালেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে লবণ কমানোর সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে করা বেশি কার্যকর।
প্রতিদিনের জীবনে আরও ৮টি সহজ অভ্যাস
১. নিয়মিত হাঁটুন
আপনার
শরীরের
সক্ষমতা
অনুযায়ী
নিয়মিত
হাঁটা
শুরু
করুন।
একেবারে
দীর্ঘ
সময়
হাঁটার
প্রয়োজন
নেই; নিজের
সামর্থ্য
অনুযায়ী
শুরু
করে
ধীরে
ধীরে
সময়
বাড়াতে
পারেন।
নিয়মিত
শারীরিক
কার্যক্রম
রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণের
গুরুত্বপূর্ণ
অংশ।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
আপনার
ওজন
বেশি
হলে
সামান্য
ওজন
কমানোও
রক্তচাপের
জন্য
উপকারী
হতে
পারে।
খাবারের
পরিমাণ, শারীরিক
কার্যক্রম
এবং
ঘুম
এই
তিনটি
বিষয়
একসঙ্গে
দেখুন।
৩. বেশি শাকসবজি ও ফল খান
শাকসবজি
ও
ফলকে
দৈনন্দিন
খাবারের
গুরুত্বপূর্ণ
অংশ
করুন।
বিভিন্ন
রঙের
সবজি
ও
ফল
রাখলে
খাবারে
বৈচিত্র্য
আসে।
DASH খাদ্যাভ্যাসেও
এগুলোকে
গুরুত্ব
দেওয়া
হয়।
৪. পটাশিয়ামযুক্ত খাবার নিয়ে সচেতন থাকুন
কলা, শাকসবজি, ডালসহ
বিভিন্ন
খাবারে
পটাশিয়াম
থাকে
এবং
এটি
সোডিয়ামের
প্রভাব
কমাতে
সাহায্য
করতে
পারে।
তবে
কিডনি
রোগ
থাকলে
বা
এমন
কিছু
ওষুধ
খেলে
যা
শরীরে
পটাশিয়াম
বাড়ায়, অতিরিক্ত
পটাশিয়াম
নেওয়ার
আগে
চিকিৎসকের
পরামর্শ
নিন।
৫. ধূমপান বন্ধ করুন
নিকোটিন
সাময়িকভাবে
রক্তচাপ
বাড়াতে
পারে।
তাই
ধূমপান
বা
অন্যান্য
তামাকজাত
পণ্য
এড়ানো
হৃদ্স্বাস্থ্যের
জন্য
গুরুত্বপূর্ণ।
৬. ঘুমকে গুরুত্ব দিন
প্রতিদিন
পর্যাপ্ত
ও
মানসম্মত
ঘুমের
চেষ্টা
করুন।
নিয়মিত
কম
ঘুম
ও
খারাপ
ঘুমের
সঙ্গে
উচ্চ
রক্তচাপের
সম্পর্ক
রয়েছে।
৭. মানসিক চাপ সামলান
দীর্ঘ
সময়ের
মানসিক
চাপ
আপনার
জীবনযাপন
ও
স্বাস্থ্যকর
অভ্যাসকে
ব্যাহত
করতে
পারে।
হাঁটা, শ্বাস-প্রশ্বাসের
ব্যায়াম, প্রার্থনা, ধ্যান
বা
পছন্দের
শান্ত
কাজের
জন্য
প্রতিদিন
কিছু
সময়
রাখতে
পারেন।
৮. নিয়মিত প্রেসার মাপুন
আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তাহলে বাড়িতে রক্তচাপ মাপার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। শুধু একটি দিনের রিডিং না দেখে বিভিন্ন দিনের রিডিং লিখে রাখুন। এতে আপনার চিকিৎসকও পরিস্থিতি বুঝতে সুবিধা পাবেন। এই অভ্যাসগুলোই বাস্তব অর্থে প্রাকৃতিক উপায়ে প্রেসার কমানোর ভিত্তি তৈরি করে। কোনো একটি উপাদানকে “ম্যাজিক সমাধান” মনে করার চেয়ে আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসগুলো ঠিক করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন ১৫টি টিপস
কখন
শুধু
ঘরোয়া
উপায়ের
ওপর
নির্ভর
করবেন
না?
অনেকে প্রেসার একটু বাড়লেই শুধু লেবু, রসুন, তেঁতুল বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করতে চান। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। জীবনযাপনের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক মানুষের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধেরও প্রয়োজন হয়। আপনার যদি বারবার প্রেসার বেশি আসে, তাহলে কারণ খুঁজে বের করা দরকার। ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, অতিরিক্ত ওজন, ঘুমের সমস্যা, কিছু ওষুধ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ও রক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব দিতে হয়। গর্ভবতী হলে বা সন্তান জন্মের পর রক্তচাপ বেড়ে গেলে নিজের মতো কোনো ঘরোয়া চিকিৎসা শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শেষ কথাঃ উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো একক খাবার বা পানীয়কে জাদুকরী সমাধান ভাবার সুযোগ নেই। বরং আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। লবণ কমানো, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান এড়ানো এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সবগুলো একসঙ্গে অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি আজ থেকেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ করতে চান, তাহলে একসঙ্গে সবকিছু বদলানোর দরকার নেই। প্রথমে খাবারে অতিরিক্ত লবণ কমান, এরপর প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করুন, প্যাকেটজাত খাবার কমান এবং নিয়মিত প্রেসার মাপুন। ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো আপনার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।
মনে রাখবেন, প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায় আপনার চিকিৎসার সহায়ক হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বিকল্প নয়। বিশেষ করে আপনি যদি নিয়মিত প্রেসারের ওষুধ খান, তাহলে রক্তচাপ কিছুটা ভালো দেখালেই নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না। তেঁতুলের পানি বা রসুন খাবার হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে, কিন্তু এগুলো দিয়ে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া প্রেসার দ্রুত নামানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। আর যদি রক্তচাপ ১৮০/১২০ mmHg-এর বেশি থাকে এবং সঙ্গে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা/অবশভাব, দৃষ্টির পরিবর্তন বা কথা বলতে সমস্যা থাকে, তাহলে ঘরোয়া উপায়ের জন্য অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
সবশেষে, প্রাকৃতিক উপায়ে প্রেসার কমানোকে কোনো একদিনের কাজ হিসেবে দেখবেন না। এটি একটি জীবনযাপনের অভ্যাস। আজ আপনি যে লবণটি একটু কম খেলেন, যে ২০–৩০ মিনিট হাঁটলেন, যে অতিরিক্ত নোনতা খাবারটি এড়িয়ে গেলেন এই ছোট সিদ্ধান্তগুলোই আমাদের হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষার দীর্ঘ যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সঠিক তথ্য, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ এই তিনটি বিষয়কে সঙ্গে রাখলে আপনি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পথে আরও সচেতনভাবে এগিয়ে যেতে পারবেন।

অলইনফোনেষ্ট এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url