সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন ১৫টি টিপস
সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন ১৫টি টিপস
পোষ্ট সূচিপত্রঃ সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন ১৫টি টিপস
- সন্তান জন্মের আগে সিজারিয়ান মায়ের কেমন যত্ন হওয়া উচিত
- সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন ১৫ টি টিপস
- সিজারের পর কতদিন কাটা অংশের বিশেষ যত্ন নেয়া দরকার
- সিজারের পর মায়ের কোন কাজগুলো করা যাবে না
- সিজারের পর মায়ের সাথে সন্তানের কেমন যত্ন নিবেন
- সিজারের কতদিন পর আবার সন্তান নিতে পারবেন
- শেষ কথাঃ সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন ১৫টি টিপস
সন্তান জন্মের আগে সিজারিয়ান মায়ের কেমন যত্ন হওয়া উচিত
সিজারিয়ান অপারেশনের আগের সময়টিও মায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিজারের আগে মায়ের শরীর যতটা ভালো অবস্থায় থাকবে, সিজারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার পথটাও সাধারণত ততটাই সহজ হয়। তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি সিজারের প্রয়োজন হবে কিনা, সেটি চিকিৎসকের পরামর্শ ও মায়ের শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। নরমাল ডেলিভারিতে অনেক কষ্ট হবে এই ভয়ে বা অন্যের অভিজ্ঞতার কারণে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য সিজারের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। সিজারের আগে চিকিৎসকের দেয়া সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে। মায়ের রক্তের গ্রুপ, রক্তস্বল্পতা, রক্তচাপ, ডায়াবেটিসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া জরুরী। মা নিয়মিত ওষুধ খেয়েছে কিনা? খেলেও কোন ওষুধটি খেয়েছে? সেটিও চিকিৎসককে জানাতে হবে। নিজের ইচ্ছায় কোন ওষুধ বন্ধ বা চালু করা ঠিক একদমই উচিৎ নয়।
খাবারের দিক থেকেও সিজারিয়ান মায়েদেরকে সচেতন থাকা দরকার। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শরীরকে অযথা ক্লান্ত না করাই ভালো। পুষ্টিকর খাবার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। তবে বিশেষ কোনো রোগ থাকলে খাবারের বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।
সন্তান জন্মের আগে সিজারিয়ান মায়ের মানসিক প্রস্তুতিও বিশেষ প্রয়োজন। সিজার হলেই গর্ভবতী মায়ের অনেক সমস্যা হবে এমন ভয় দেখানো উচিত নয় বরং পরিবারের সবাইকে বিশেষ করে পার্টনার কে গর্ভবতী মাকে সাহস দিতে হবে। সিজারের আগে কোন হাসপাতালে যাবেন, গর্ভবতী মায়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, রক্তের প্রয়োজন হলে তার ব্যবস্থা করে রাখা এবং শিশু জন্মের পরে প্রয়োজনীয় জিনিস প্রস্তুত করে রাখলে, শেষ মুহূর্তে দুশ্চিন্তা অনেকটা কমে যায়। অর্থাৎ মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন এই বিষয়টি শুধু সিজারের পর থেকে নয় বরং সন্তান জন্মের আগে থেকেই শুরু করা উচিত।
সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন ১৫টি টিপস
সিজারের পর একজন মায়ের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে যেমন, কি খাবেন? কিভাবে শোবেন? শিশুকে কিভাবে কোলে নিবেন? কাটা জায়গায় পানি থাকলো কিনা? কতক্ষণ হাঁটবেন? কিংবা কোন কোন কাজ করা যাবে না? এসব প্রশ্নের উত্তর এক এক মায়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই এই সব প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসকের নির্দেশনা কে সব সময় অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে এই পেষ্ট পড়ার মাধ্যমেই আপনি সহজভাবে বিস্তারিত জানতে পারবেন সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন ।
১। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে
পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরের সকল ক্লান্তি ও ক্ষত দূর করে দেয়। সিজারের পর মায়ের শরীরকে সুস্থ হতে সময় দিতে হবে। বাইরে থেকে সিজারের কাটা জায়গায় ছোট মনে হলেও, এটি একটি বড় অস্ত্রোপাচার। তাই প্রথম কয়েক সপ্তাহ মায়ের বিশ্রামের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি থাকে। শিশুর যত্নের পাশাপাশি মা কেও নিজের ঘুম ও বিশ্রামের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিশু যখনই ঘুমাবে সম্ভব হলে তখন মা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে পারেন। দিনে অথবা রাতে যখনই সময় হবে শিশুর প্রয়োজনীয় কাজে পরিবারের অন্য সদস্যরা সহযোগিতা করলে মায়ের উপর চাপ কমে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে ।
২। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাঁটাচলা
সিজারের পর দীর্ঘ সময় একবারে নড়াচড়া না করে বিছানায় পড়ে থাকা যে কোন মানুষের জন্য ক্ষতির কারন হিসেবে বিবেচিত হয়। আর একজন সিজারিয়ান ময়ের জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয় হতে পারে। পরিবারের সদস্যরা সবসময় শিশুকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে মায়ের হাঁটাচলার দিকে নজর না দিলে, দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকার কারণে, মায়ের শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তােই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অল্প অল্প করে হাঁটাচলা শুরু করতে হবে। চিকিৎসক যেভাবে আপনাকে পরামর্শ দিবে, আপনি সেভাবেই হাঁটবেন, চলাফেরা করবেন। প্রথমে কয়েক কদম হেটে বিশ্রাম নিন, তারপর আস্তে আস্তে শরীরের অবস্থা বুঝে হাটা হাটি বাড়াবেন। একগুয়েমি শুয়ে থাকার চেয়ে একটু হাটাহাটি করা অনেক ভালো। যদি হাঁটার সময় মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা বা ব্যথা বেড়ে যায় তাহলে অবশ্যই আপনাকে বিশ্রাম নিয়ে থেমে থেমে হাটতে হবে।
একা একা হাঁটার পরিবর্তে আপনার পার্টনার অথবা পরিবারের কাউকে পাশে নিয়ে হাঁটলে ভালো হবে। আপনি একা একা হাঁটতে গিয়ে যদি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়েন, তাহলে আপনার পার্টনার অথবা পরিবারের লোকজনই আপনাকে দ্রুত সহযোগিতা করতে পারবে। মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন এর মধ্যে নিরাপদ ভাবে চলাফেরার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কত দ্রুত হাঁটা শুরু করবেন, কি ভাবে হাঁটবেন তা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী হওয়া উচিত।
৩। পুষ্টিকর খাবার গ্রহন
সিজারের পর শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনতে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। মা কে শুধু পেট ভরে খেলেই হবে না, খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টিও থাকতে হবে। আর এই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে অবশ্যই মাছ, মাংস, ডাল, দুধ, ডিম বা সহনীয় দুগ্ধজাত খাবার, শাকসবজি ও ফলমুল খাওয়ানো উচিৎ। সিজারের পরে একসঙ্গে অনেক খাবার খেতে কষ্ট হলে, অবশ্যই অল্প অল্প করে কয়েকবার খেতে পারেন। মুখের রুচি বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত তেল অথবা মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। বিশেষ করে মা যেহেতু শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন নির্দিষ্ট খাবার নিয়ে সন্দেহ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৪। পর্যাপ্ত পানি পান
সিজারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। শরীরের পানির ঘাটতি হলে দুর্বল লাগতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করার অভ্যাস করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু পানি নয়, চিকিৎসকের অনুমোদিত স্বাস্থ্যকর তরল খাবারও নেওয়া যেতে পারে, যা মায়ের শরীরের জন্য খুবই ভালো। যদি কোনো কারণে চিকিৎসক পানি বা তরল গ্রহণ সীমিত করতে বলে থাকেন, তাহলে সেই নির্দেশনায় মানতে হবে। সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন এই টিপস গুলো অনুসরণ করার সময় সাধারণ নিয়মের পাশাপাশি নিজের চিকিৎসকের পরামর্শকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া উচিত।
৫। সিজারের জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন
সিজারের কাটা ও জায়গাটি নিয়ে মায়েদের দুশ্চিন্তা একটু বেশিই থাকে, কিভাবে পরিষ্কার করবেন? কখন পানি লাগবে? ব্যান্ডেজ কতদিন থাকবে? ইত্যাদি ইত্যাদি। এই বিষয়ে হাসপাতাল থেকে যেসব জরুরি নির্দেশনা দেয়া হয় সেটি, সেসব মেনে চলুন। সিজারের কাটা জায়গায় নিজের ইচ্ছায় যে কোন প্রকার তেল, পাউডার, মলম বা কোন ঘরোয়া উপাদান কখনোই ব্যবহার করবেন না। ক্ষতস্থান অস্বাভাবিকভাবে লাল হয়ে গেলে ফুলে গেলে অথবা পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হলে কিংবা ব্যথা বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সিজারের জায়গাটি নিয়ে লজ্জা বা সংকোচ না করে কোন অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে চিকিৎসককে জানান। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া অনেক সময় বড় সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে।
৬। চিকিৎসকের দেয়া ওষুধ সময়মতো খাও
সিজারের পর মায়ের যত্ন ঠিকমত না নিলে কাটা অংশে ব্যথা সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। কাটা অংশে সংক্রমণের ঝুঁকি বা অন্য কোন প্রয়োজনের জন্য চিকিৎসক যেসব ঔষধ সেবনের জন্য দেয়, সেসব ঔষধ অবশ্যই আপনাকে গ্রহণ করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের ডোজ, নির্দিষ্ট সময় এবং সকল নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিজারের অংশে ব্যথা কমে গেলে কখনোই নিজের ইচ্ছায় ঔষধ খাওয়া বন্ধ করবেন না। আবার আপনার পরিচিত কারো পরামর্শে নতুন কোনো ওষুধও গ্রহণ করা শুরু করবেন না। বিশেষ করে মা যেহেতু শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তােই যেকোনো ওষুধ নেয়ার আগে, চিকিৎসক কে অবশ্যই জানানো প্রয়োজন। কারন আপনার গ্রহনকৃত ঔষুধের কারনে শিশুর ক্ষতি হতে পারে।
আরও পড়ুন: চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার ৬টি ঘরোয়া উপায়
চিকিৎসক মা এর শরীরের কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করে ওষুধ দিবেন তাই শিশুর কোন ক্ষতি হবে না। সিজারের পর মায়ের যত্ন ঠিক ভাবে করতে হলে ওষুধের পাশাপাশি মায়ের শরীরের ওষুধের কোন অস্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা সেটিও লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখতে পারেন, তাহলে অবশ্যই দেরি না করে আপনার সংশ্লিষ্ট ডাক্তারকে অবহিত করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে কখনোই কোন কিছু করতে যাবেন না এতে আপনার শরীরের ক্ষতি হতে পারে যা পরবর্তীতে বড় একটা বিপদের কারণ হতে পারে।
৭। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলুন
কোষ্ঠকাঠিন্য একটি অস্বস্থিকর বিষয়। যে কোন মানুষের এটি হতে পারে। সিজারের পর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে মায়ের অস্বস্থি আরো বেড়ে যাবে। তাই এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়ায় জন্য মা কে পর্যাপ্ত পানি পান করানো, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়াতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে মাকে টয়লেটে পায়খানা করার সময় অতিরিক্ত চাপ দেয়া ঠিক যাবে না। অতিরিক্ত চাপ দিলে সিজারের সেলাই ফেটে যেতে পারে। তাই অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমানে পানি ও তরল পানকার উচিৎ। কোষ্ঠকাঠিন্য কয়েকদিন ধরে হয়ে থাকলেবা পেটের ব্যথা বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজের ইচ্ছায় কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। কারণ সিজারের পর আপনার শরীরের অবস্থা এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন। তাই কখনোই নিজে নিজে কোন ওষুধ গ্রহণ করবেন না ।
৮। ভারী জিনিস তুলবেন না
সিজারের পর ভারী জিনিস তোলা বা নামানো মায়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে কারন এতে সিজারের সেলাই ফেটে যেতে পারে। শরীরে অথবা পেটের উপর বাড়তি চাপ ফেলতে পারে এমন কোন কাজ করা যাবে না। তাই ভারী বালতি, পানির পাত্র অথবা অন্য কোন ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকুন। শিশুকে কোলে নেওয়ার প্রয়োজন হলে কিভাবে নিরাপদে নেবেন, তা পরিবারের সহতায় শিখে নিন। পেটে চাপ বা ব্যথা অনুভূতি হলে কাজ বন্ধ রাখুন। মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন এই প্রশ্ন একটি সহজ উত্তর হল শরীর যতটুকু সহ্য করতে পারে, তার বেশি কাজ করতে দেয়া যাবে না।
৯। আরামদায়ক ও জীবানুমুক্ত পোশাক পড়ুন
যেকোনো পরিবেশে পোশাক একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পোশাক যদি স্বাচ্ছন্দের না হয়, তাহলে ছোট অথবা বড় কেউই আরামে থাকতে পারেনা, কোন কাজে মন দিতে পারে না, বিশেষ করে মনোযোগ ধরে রাখা খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। শরীরে সবসময় একটি অস্বস্তি ভাব থাকে। ভালো কাপড় মানে শরীরের স্বাধীনতা এবং মনে শান্তি ও প্রফুল্লতা। তাই সিজারের পর মায়ের যন্তের কথা চিন্তা করে এবং সিজারের কাটা জায়গায় চাপ বা ঘসা না লাগে এমন আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক নির্বাচন করতে হবে। পরিষ্কার ও আরামদায়ক পোশাক পড়লে মা এবং শিশুর চলাফেরা ও বিশ্রাম দুটোই সহজ হবে।
আবার শুধু আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা পোশাক নির্বাচন করলেই হবে না, মা এবং শিশুর জন্য নির্বাচিত পোশাক অবশ্যই পরিষ্কার এবং জীবানুমুক্ত রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিজারের পর মায়ের কাটা জায়গায় ঘষা লেগে যায় এবং ঘাম বেশি হয় এমন কাপড় ব্যবহার কাঁটা অংশের সেলাই এ লেগে রক্তক্ষরণ সহ ইনফেকশন হতে পারে। সাধারণ এই বিষয়গুলো অনেক সময় ছোট মনে হলেও সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন সেই টিপস গুলো অনুসরণ করার ক্ষেত্রে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১০। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সতর্ক থাকুন
মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি আদর্শ খাবার। সিজারের পর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, মায়ের পেটে কাঁটা অংশে কোন ভাবেই চাপ না লাগে। প্রায়শই শিশু বুকের দুধ খাওয়ার সময় স্বভাবগত ভাবে পা দিয়ে মায়ের শরীরে আঘাত করে। কোন কারনে শিশুর পায়ের আঘাত যদি মায়ের কাঁটা অংশে লেগে যায় তাহলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। তাই আপনাকে এমন একটি ভঙ্গি বেছে নিতে হবে যাতে শিশুর ওজন অথবা পায়ের আঘাত সরাসরি আপনার কাটা জায়গাযর উপর না পড়ে। প্রয়োজনে বালিশ ব্যবহার করে আপনার শিশুকে আরামদায়ক অবস্থানে রাখুন। আপনার বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় প্রচন্ড ব্যথা হলে জোর করে একই অবস্থানে না থেকে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্তন্যদান পরামর্শদাতার সাহায্য নিতে পারেন।
১১। ধীরে ধীরে দৈনন্দিন কাজ শুরু করুন
সিজারের পর আপনি আপনার সংসারের সব কাজ আগের মত করতে পারবেন না। একটি অস্ত্রোপচার মানে শরীরের উপর অনেক বড় ক্ষত। এই ক্ষত ঠিক হয়ে আপনার শরীরের শক্তি ধীরে ধীরে ফিরে আসাবে। সংসারের প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করা ভালো, তবে প্রথম দিকে রান্না ঘরে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, বারবার সিঁড়ি ওঠানামা করা কিংবা ঘর পরিষ্কারের মত পরিশ্রমের কাজ অল্প অল্প করে করতে পারেন। এই সব কাজ করার পর যে কোন ব্যথা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি হলে বিশ্রাম নিন। মনে রাখবেন দ্রুত সব কাজ করতে পারা সুস্থতার প্রমান নয়। আপনার শরীরকে সময় দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমানের কাজ। কারো উপর রাগ দেখিয়ে বা জেদ করে কোন কাজ করতে যাবেন না তাতে আপনারই ক্ষতি হবে। এই বিষয়ে পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন থাকা উচিৎ।
১২। ব্যক্তিগত পরিছন্নতা বজায় রাখুন।
সিজারের পর মায়ের যত্ন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় পরিষ্কার পোশাক পরা, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী গোসল করা এবং শরীরের সেনসিটিভ স্থানের বিশেষ যত্ন নেওয় উচিত। সিজারের কাটা জায়গা পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে হাসপাতালের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। নিয়মিত এবং অতি সাবধানতার সাথে ড্রেসিং করতে হবে। আপনার ক্ষতস্থানে বারবার হাত দেয়া বা অপ্রয়োজনে স্পর্শ করা যাবে না। শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে ভালো ভাবে হাত ধুয়ে অথবা এন্টিসেপটিক ক্রিম বা তরল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এসব ভালো অভ্যাস মা ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।
১৩। মানুষিক ভাবে ভালো রাখুন
সিজারের পর মায়ের শুধু শরীর নয় মন ও ক্লান্ত হয়ে যায়। নবাগত শিশুর কান্না, নিজের ঘুমের ঘাটতি, শরীরের ব্যথা এবং নতুন দায়িত্ব সবমিলিয়ে মায়ের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায় এবং মানুষিক ভাবে খুবই চাপ বোধ করে। তাই বিশেষ করে শিশুর বাবা কে এবং পরিবারের সদস্যদের উচিত মায়ের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা ও তার কথা মন দিয়ে শোনা। মাকে মানুষিক ভাবে চাপ মুক্ত রাখলে, তার সব কাজ সহজ হবে এবং শিশুর যত্নও ভালো ভাবে নিতে পারবে।
“তুমি তো মা হয়েছ তাই সব তোমাকেই সামলাতে হবে” এই ধরনের তিক্ত কথা না বলে বরং প্রয়োজনে সাধ্য মত কাজে সাহায্য করুন। দীর্ঘ সময় ধরে মন খারাপ থাকলে অতিরিক্ত ভয় বা উদ্বেগ শুরু হয়। যদি স্বাভাবিক কাজকর্মে আগ্রহ হারিয়ে যায় কিংবা নিজের অথবা শিশুর ক্ষতি করার চিন্তা আসে তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নেয়া জরুরী।
১৪। নিয়মিত ফলোআপ করুন
অপারেশনের পর চিকিৎসক যে সময় ফলোআপে যেতে বলেছেন তা মেনে চলুন। এই সময় চিকিৎসক মায়ের ক্ষত, ব্যথা, রক্তপাত এবং অন্যান্য শারীরিক বিষয় মূল্যায়ন করতে পারেন। মায়ের কোন সমস্যা থাকলে ফলোপের সময় বিস্তারিত জানাতে হবে। যেকোন সমস্যা দেখা দিলে ফলোআপের নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করা উচিত। সিজারের পর শরীর কিভাবে সুস্থ হচ্ছে তা বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শ খুবই জরুরী।
১৫। অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে দেরি করবেন না
সিজারের পর কিছুটা ব্যথা দুর্বলতা বা অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে দেখা করুন। যেমন অতিরিক্ত রক্তপাত, উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুক ব্যথা, তীব্র বা ক্রমে বাড়তে থাকা পেটের ব্যথা, ক্ষতস্থানে অতিরিক্ত লাল ভাব বা ফোলা পুঁজ কিংবা দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হওয়া অথবা এক পায়ে স্বাভাবিক ব্যথা ও ফলাফল এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে, ঘরে বসে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সিজারের পর মায়ের যত্ন তখন শুধু ঘরোয়া পরিচর্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
সিজারের পর কতদিন কাটা অংশের বিশেষ যত্ন নেয়া দরকার
সিজারের পর মায়ের কাঁটা অংশ পুরোপুরি ভালো হতে প্রত্যেক মায়ের ক্ষেত্রে সময়ের বিস্তর ফারাক দেখা যায়। বাইরে থেকে ক্ষত শুকিয়ে গেলেও শরীরের ভেতরের টিস্যু পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগতে পারে। তাই শুধু কাটা জায়গা দেখতে ভালো লাগছে বলে হঠাৎ করে আগের মতো ভারী কাজ শুরু করা ঠিক নয়। সিজারের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ ক্ষত স্থানের দিকে বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন। চিকিৎসক যে নিয়ম এ ক্ষত পরিষ্কার রাখতে বলেছেন, ঠিক সেভাবেই আপনাকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। কাঁটা জায়গা অতিরিক্ত লাল, গরম, ফুলে যাওয়া ব্যথা বেড়ে যাওয়া বা পুঁজ বের হওয়ার মত পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন: শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায়
কাটা জায়গায় কোন ঘরোয়া উপাদান লাগানো উচিত নয়। অনেকেই দ্রুত দাগ কমানোর আশায় তেল, ক্রিম বা বিভিন্ন ধরনের উপাদান ব্যবহার করেন। কিন্তু সিজারের ক্ষত পুরোপুরি ভালো হওয়ার আগে এসব ব্যবহার করলে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্ষত শুকানোর সময় চুলকানি বা হালকা টান অনুভূত হতে পারে। তবে স্বাভাবিক ব্যথা বা সেলাই খুলে যাওয়ার মতো মনে হলে বিষয়টি অবহেলা করা যাবে না। তাই সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন ১৫টি টিপস অনুসরণ করার পাশাপাশি কাঁটা জায়গার অবস্থাও নিয়মিত লক্ষ্য করতে হবে। চিকিৎসক যে সময় পর্যন্ত বিশেষ সতর্ক থাকতে বলেছেন, সেই সময় পর্যন্ত নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সিজারের পর মায়ের কোন কাজগুলো করা যাবে না
সিজারের পর নিজের শরীর কে সময় না দিয়ে দ্রুত আগে রুটিন ফিরে যাওয়ার চেষ্টা না করাই উচিত। বিশেষ করে ভারী জিনিস তোলা বা নামানো, অতিরিক্ত পরিশ্রম করা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা বারবার সিঁড়ি ওঠানামা করা এড়িয়ে চলা ভালো। কাঁটা জায়গায় চাপ পড়ে এমন পোশাক পরা এবং নিজের ইচ্ছায় ক্ষতস্থানে তেল পাউডার বা কোন মলম লাগানো থেকে বিরত থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। অনেক মা সন্তানের জন্মের পর পরেই ঘরের সব কাজ করতে শুরু করে। পরিবারের উচিত এমনটি না হতে দেয়া। রান্না, কাপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার বা বাজারের কাজ পরিবারের সকল সদস্য ভাগ করে নিলে মায়ের বিশ্রামের সুযোগ বাড়ে। ব্যায়ামের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন হালকা হাঁটাচলা চিকিৎসকের অনুমতি অনুযায়ী করা যেতে পারে।
এছাড়াও যৌন সম্পর্ক বা অন্য শারীরিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রেও তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। রক্তপাত, ব্যথা, ক্ষত এবং সামগ্রিক সুস্থতার ওপর বিষয়টি নির্ভর করতে পারে তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন। অর্থাৎ সিজারের পর মায়ের যত্ন মানে শুধু কি করতে হবে তা জানা নয়। কোন কাজগুলো আপাতত করা যাবে না সেটিও জানা জরুরী।
সিজারের পর মায়ের সাথে সন্তানের কেমন যত্ন নিবেন
সিজারের পর একই সঙ্গে মা ও নবজাতকের যত্ন নেয়া পরিবারের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জের হতে পারে। তবে পরিকল্পনা করে এগুলে বিষয়টি অনেক সহজে হয়ে যায়। প্রথমেই মনে রাখতে হবে শিশুর যত্ন নিতে গিয়ে মায়ের বিশ্রাম যেন একেবারে বন্ধ না হয়ে যায়। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো গুরুত্বপূর্ণ, মা যদি শারীরিকভাবে সক্ষম থাকেন এবং চিকিৎসক কোন বাধা না দেন, তাহলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করা উচিৎ। তবে ব্যথার কারণে শিশুকে বুকের কাছে ধরতে সমস্যা হলে পরিবারের সদস্যগনের সাহায্য নেয়া উচিৎ।
নবজাতকের ঘুম, দুধ খাওয়ার সময়, প্রস্রাব ও পায়খানা এবং অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ খেয়াল রাখা দরকার। শিশুর শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা বা গরম মনে হলে, শ্বাস নিতে সমস্যা হলে, দুধ খেতে না চাইলে বা অন্য কোন উদ্বেগজনক জন্য লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। একই সঙ্গে মায়ের খাবার পানি, ওষুধ ও বিশ্রামের দিকেও নজর রাখতে হবে। পরিবারের একজন যদি শুধু শিশুর প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দেখেন এবং আরেকজন মায়ের খাবার ও বিশ্রামের বিষয়টি দেখেন তাহলে দায়িত্ব ভাগ হয়ে যায় এতে মা এবং শিশু দুজনেরই সুস্থ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
মনে রাখতে হবে সুস্থ মা-ই শিশুর যত্ন আরো ভালোভাবে নিতে পারেন। তাই মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন এই প্রশ্নের সঙ্গে শিশুর যত্নের বিষয়টিও জড়িত আছে। শিশুকে ভালো রাখতে হলে মাকেও ভালো রাখতে হবে।
সিজারের কতদিন পর আবার সন্তান নিতে পারবেন
সিজারের পর আবার সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট একটি দিন বা মাস সবার জন্য একই হবে, এমনটি ভাবে যায় না। মায়ের বয়স, আগের গর্ভধারণের ইতিহাস, সিজারের কারণ, সিজারের পর সুস্থতা এবং পরবর্তী গর্ভধারণের ঝুঁকি সবকিছুই বিবেচনা করতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা সাধারণভাবে একটি সন্তান জন্মের পর পরবর্তী গর্ভধারণের আগে পর্যাপ্ত ব্যবধান রাখার পরামর্শ দেয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ২৪ মাসের মতো বিরতি রাখার কথা বলা হয়, কারণ এতে মায়ের শরীরকে পুনরুদ্ধারের সময় পাওয়া যায় এবং পরবর্তী গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়। তবে এটি ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
বিশেষ করে আগে সিজার হয়ে থাকলে পরবর্তী গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার আগে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা ভালো। চিকিৎসক আগের অপারেশনের তথ্য, মায়ের বর্তমান স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ গর্ভধারণের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসক পরামর্শ দিতে পারবেন। এ সময় অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন বলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা একেবারে নেই এমন ধারণা ঠিক নয়।
শেষ কথাঃ সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন ১৫টি টিপস
সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন ১৫ টি টিপস অনুসরণ করার সময় মনে রাখতে হবে, প্রতিটি মায়ের শরীর সুস্থ হওয়ার গতি এক নয়। কারো শরীর দ্রুত ভালো লাগতে পারে, আবার কারো একটি বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। তাই অন্য মায়ের সঙ্গে নিজের সুস্থতার তুলনা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন। সবশেষে সিজারের পর মায়ের যত্ন নেয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিজের শরীরের স্বাভাবিক সংকেত কে অবহেলা না। অতিরিক্ত রক্তপাত, জ্বর, তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্ষতস্থানে সংক্রমণের লক্ষণ কিংবা মানসিকভাবে গুরুতর সমস্যার অনুভূতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।
সঠিক যত্ন, পরিবারের সহযোগিতা এবং প্রয়োজনের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ, এই তিনটি বিষয় মেনে চললে সিজারের পর একজন মা ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। সিজারের পর ক্ষত, ওষুধ, ব্যায়াম, যৌন সম্পর্ক বা পরবর্তী গর্ভধারণের বিষয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাই সিজারের পর মায়ের যত্ন কিভাবে নিবেন এই বিষয়টি শুধু মায়ের জন্য নয়, পরিবারের প্রত্যেকেরই জানা উচিত।



অলইনফোনেষ্ট এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url