শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি

শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি



আপনি কি শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি বিষয়ে জানতে চান? শীতকালে ঠান্ডায় কি আপনার অথবা পরিবারের বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা বেড়ে যায়? শীতকালেই কেন বাত এর ব্যথা  বাড়ে, তার কারণগুলো এই পোষ্টে  তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আপনি 

জানতে পারবেন শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথার লক্ষণ, প্রতিকার, প্রতিরোধসহ সকল কিছুই। ঘরে বসে জয়েন্টে ব্যথা কমানোর সহজ ব্যায়াম, মালিশ ও গরম সেক দেওয়ার নিয়ম সহ ব্যথা কমানোর কার্যকরী ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে বিস্তারিত আছে এখানে। তাই নিজেকে অথবা আপনার পরিবারের সদস্যদের কে জয়েন্টের ব্যথা থেকে সুস্থ ও সচল রাখতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।

পোষ্ট সূচিপত্রঃ শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি


শীত এলেই অনেক বয়স্ক মানুষের একটি পরিচিত অভিযোগ শোনা যায়, আর সেগুলো হলো হাঁটুতে ব্যথা, কোমর শক্ত হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের জয়েন্ট নাড়াতে অস্বস্তি কিংবা সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটতে কষ্ট হওয়া। যাদের আগে থেকেই অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা অন্য কোনো জয়েন্টের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডার সময় এই অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হয়, তাই এই অস্বস্থি থেকে পরিত্রান পেতে এই সময়ে একেবারে নড়াচড়া বন্ধ না করে, নিয়মিত শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মানানসই ব্যায়াম, জয়েন্টের নড়াচড়াই আপনার পেশির শক্তি এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তাই শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি বলতে শুধু কোনো মেশিন ব্যবহার বা ব্যথার জায়গায় মালিশ করাকে বোঝায় না। এর মধ্যে রয়েছে সঠিক ব্যায়াম, পেশি শক্তিশালী করা, জয়েন্ট সচল রাখা, প্রয়োজনে গরম সেক দেয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং দৈনন্দিন কাজের ধরন ঠিক করা। আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জয়েন্টে ব্যথা হলেই সব কাজ বন্ধ না করা আবার ব্যথাকে উপেক্ষা করেও কঠিন কোন ব্যায়াম না করা। আপনার বয়স, রোগের ধরন, ব্যথার মাত্রা, অন্যান্য শারীরিক সমস্যা এবং হাঁটার সক্ষমতা অনুযায়ী শারীরিক ব্যায়াম করার পদ্ধতি নির্বাচন করাই নিরাপদ।

শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্ট ব্যথা কেন বাড়ে

শীতকালে জয়েন্টের ব্যথা কেন বেশি অনুভূত হয় এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোন উত্তর নেই। প্রত্যেক ব্যক্তির জয়েন্টের ব্যথা কারণ আলাদা হতে পারে, তবে কারও অস্টিওআর্থ্রাইটিস আছে, কারও পুরোনো আঘাতের সমস্যা, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায়। বিধায় জয়েন্টে ব্যথা অনুভব হয়। গরমের সময় মানুষ স্বাভাবিকভাবে বাইরে হাঁটাচলা করে। কিন্তু শীতকালে অনেকে দীর্ঘ সময় কম্বলের নিচে বা ঘরের মধ্যে বসে থাকেন। ফলে জয়েন্ট নিয়মিত নড়াচড়া করার সুযোগ কম পায় বিধায় আপনার হাড়ের জয়েন্ট দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় থাকলে শক্ত মনে হতে পারে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা অনেকক্ষণ বসে থাকার পর ধীরে ধীরে জয়েন্ট নাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ, এতে ব্যথা কমে যাবে। 

আরও পড়ুনঃ শিশু কে রোগ রোগমুক্ত রাখার ১০ উপায়

শীতকালে ঠান্ডা পরিবেশে শরীরের পেশিতে শক্তভাব অনুভূত হতে পারে। এর সঙ্গে যদি ব্যায়াম ও দৈনন্দিন হাঁটাচলা কমে যায়, তাহলে হাঁটু, কোমর বা কাঁধের চারপাশের পেশির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। শক্তিশালী পেশি জয়েন্টকে ভালোভাবে সহায়তা করে। তাই অস্টিওআর্থ্রাইটিসে শুধু ব্যথার জায়গা নিয়ে চিন্তা না করে আশপাশের পেশিগুলোকেও সক্রিয় রাখা জরুরি। পুরোনো জয়েন্টের সমস্যা শীতে বেশি অনুভূত হতে পারে অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ব্যথা, শক্তভাব এবং কখনও ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। হাঁটু, হাত, কোমর ও নিতম্বের মতো জয়েন্ট বেশি আক্রান্ত হতে পারে। তাই আগে থেকেই জয়েন্টের সমস্যা থাকলে ঠান্ডার সময় সামান্য পরিবর্তনও বেশি চোখে পড়তে পারে।

অনেকেই মনে করেন, ব্যথা আছে তাই হাঁটা বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা জয়েন্টের জন্য সবসময় ভালো নয়। আর্থ্রাইটিসে শারীরিক কার্যক্রম ব্যথা কমাতে এবং দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ব্যথা থাকা অবস্থায় জোর করে দীর্ঘ সময় হাঁটতে হবে। বরং অল্প সময় দিয়ে শুরু করে শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখে ধীরে ধীরে কার্যক্রম বাড়ানো ভালো।

বয়স বাড়লে জয়েন্টে কী ধরনের পরিবর্তন আসে

মানুষ তথা যে কোন প্রানীর বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। জয়েন্টও এর বাইরে নয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি বয়স বাড়া মানেই আর্থ্রাইটিস হওয়া নয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও এটি শুধুমাত্র স্বাভাবিক বার্ধক্যের অবশ্যম্ভাবী অংশ নয়। বয়সের সঙ্গে জয়েন্টের কার্টিলেজে পরিবর্তন হতে পারে। কার্টিলেজ জয়েন্টের হাড়ের প্রান্তকে মসৃণভাবে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে এবং ধাক্কা শোষণে ভূমিকা রাখে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসে এই টিস্যু ও জয়েন্টের অন্যান্য অংশে পরিবর্তন হতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য যে পরিবর্তন হয়

      • পেশির শক্তি কমে যেতে পারে।
      • ভারসাম্য আগের তুলনায় দুর্বল হতে পারে।
      • দীর্ঘ সময় বসে থাকার প্রবণতা বাড়তে পারে।
      • পুরোনো আঘাতের প্রভাব থেকে যেতে পারে।
      • শরীরের ওজন বেড়ে গেলে হাঁটু ও অন্যান্য ওজন বহনকারী জয়েন্টে চাপ বাড়তে পারে।
      • জয়েন্টের নড়াচড়ার পরিসর কমে যেতে পারে।

এই পরিবর্তনগুলোর কারণে দৈনন্দিন কাজ যেমন সিঁড়ি ওঠা, চেয়ার থেকে দাঁড়ানো, মেঝেতে বসা বা দীর্ঘ সময় হাঁটা কঠিন মনে হতে পারে। এখানেই শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি একটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। ফিজিওথেরাপির লক্ষ্য শুধু ব্যথা কমানো নয়; জয়েন্টের নড়াচড়া বজায় রাখা, আশপাশের পেশি সক্রিয় করা এবং দৈনন্দিন কাজ নিরাপদভাবে করার সক্ষমতা বাড়ানোও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হাঁটুর ব্যথা কমানোর সবচেয়ে সহজ ব্যায়াম

আপনার যদি হাঁটুতে ব্যথা থাকলে প্রথমেই খুব কঠিন ব্যায়াম করার দরকার নেই। সহজ কিছু নড়াচড়া দিয়ে শুরু করা যায়। তবে হাঁটুতে প্রচণ্ড ব্যথা, অস্বাভাবিক ফোলা, সাম্প্রতিক আঘাত বা অস্ত্রোপচার থাকে, তাহলে নিজে থেকে ব্যায়াম শুরু না করে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো। হাঁটুর ব্যথা কমানোর জন্য যে সহজ ব্যায়াম করবেনঃ

চেয়ারে বসে হাঁটু সোজা করা

প্রথমে আপনি একটি শক্ত চেয়ারে বসুন। পিঠ সোজা রাখুন। একটি পা ধীরে ধীরে সামনের দিকে সোজা করুন। কয়েক সেকেন্ড স্বাভাবিকভাবে ধরে রেখে আবার নামিয়ে আনুন। এরপর অন্য পায়ে একইভাবে করুন। এই ব্যায়ামের সময় হঠাৎ পা ছুড়ে সোজা করবেন না। ধীরে করবেন। তাহলে আরাম পাবেন।

গোড়ালি সামনে-পেছনে নড়ানো

এরপর আপনি চেয়ারে বসে একটি পা সামান্য সামনে রাখুন। গোড়ালি মাটিতে রেখে পায়ের পাতাকে সামনে ও নিজের দিকে ধীরে ধীরে নাড়ান। এতে গোড়ালি ও নিচের পায়ের নড়াচড়া বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

চেয়ার থেকে ধীরে দাঁড়ানো

যে চেয়ারের সাহায্যে ব্যায়াম করছেন সিই চেয়ারটি শক্ত ও স্থির জায়গায় রাখুন। প্রয়োজন মনে হলে  পাশে কেউ রাখতে পারেন। এর পর দুই পা মাটিতে রেখে শরীর সামান্য সামনে নিয়ে ধীরে দাঁড়ান। আবার ধীরে বসুন। এই ব্যায়ামটি উরু ও নিতম্বের পেশি সক্রিয় করার একটি কার্যকর দৈনন্দিন অনুশীলন। তবে ভারসাম্যের সমস্যা থাকলে একা করবেন না। শীতে হাঁটুর ব্যথার ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম শুরু করার সময় মূল বিষয় হলো ধীরে করা এবং ব্যথার মাত্রা লক্ষ্য করা। ব্যায়ামের সময় হালকা অস্বস্তি হতে পারে, কিন্তু তীব্র বা বাড়তে থাকা ব্যথা হলে থামতে হবে। নিয়মিত থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ দীর্ঘমেয়াদে জয়েন্টের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে পারে।

হাঁটা হাঁটি বন্ধ না করা

সব ক্ষেত্রে হাঁটা হাঁটি নয়। যদি চিকিৎসক হাঁটার অনুমতি দিয়ে থাকেন এবং হাঁটলে ব্যথা সহনীয় থাকে, তাহলে অল্প সময় হাঁটা দিয়ে শুরু করতে পারেন। আর্থ্রাইটিসে হাঁটা চালার পাশাপাশি যদি পারেন তাহলে  সাইক্লিং, সাঁতার বা পানিতে ব্যায়ামের মতো জয়েন্ট-বান্ধব কার্যক্রমের করতে পারেন। এই ব্যায়ামগুলো আপনার শরীরের জন্য খুবই উপকারি।

আর্থ্রাইটিস রোগীর শীতকালীন বিশেষ সতর্কতা

আর্থ্রাইটিস থাকলে শীতের সময় নিজের শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্ট ব্যথার ফিজিওথেরাপি পরিকল্পনা করার আগে রোগটি আসলে কী ধরনের, কোন জয়েন্ট আক্রান্ত এবং আপনার দৈনন্দিন চলাফেরা কেমন, এসব বিষয় বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ সতর্কতা হিসেবে আপনি যা করতে পারেনঃ

      • শরীর গরম রাখুনঃ শীতের সকালে হঠাৎ বিছানা থেকে উঠে দ্রুত হাঁটা শুরু না করে কয়েক মিনিট হাত-পা নাড়াতে পারেন। প্রয়োজনে উষ্ণ পোশাক ব্যবহার করুন।
      • দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় থাকবেন নাঃ একটানা বসে থাকা বা শুয়ে থাকা এড়িয়ে প্রতি কিছুক্ষণ পর অবস্থান পরিবর্তন করুন। খুব অল্প সময়ের নড়াচড়াও দিনের মোট কার্যক্রমে যোগ হয়।
      • ব্যায়ামের আগে শরীর প্রস্তুত করুনঃ ঠান্ডা অবস্থায় সরাসরি জোরালো ব্যায়াম করার বদলে কয়েক মিনিট ধীরে হাঁটা বা হালকা জয়েন্ট মুভমেন্ট দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
      • অতিরিক্ত ব্যায়াম করবেন নাঃ একদিন অনেক ব্যায়াম করে পরের কয়েক দিন পুরোপুরি বিশ্রামে থাকার চেয়ে প্রতিদিন সামান্য করে নিয়মিত ব্যায়াম করা বেশি বাস্তবসম্মত।
      • হাঁটার সময় নিরাপত্তাঃ বয়স্কদের ক্ষেত্রে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি গুরুত্বপূর্ণ। তাই পিচ্ছিল মেঝে, ভেজা বারান্দা বা অন্ধকার জায়গায় হাঁটার সময় সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনে হাঁটার লাঠি বা অন্য সহায়ক যন্ত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

জয়েন্ট পেইন দূর করার ঘরোয়া তেল মালিশ

শীতকালে জয়েন্টে ব্যথা হলে অনেকেই সরিষার তেল, নারকেল তেল বা বিভিন্ন ভেষজ তেল দিয়ে মালিশ করেন। হালকা মালিশ কিছু মানুষের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট তেল মালিশ করলেই জয়েন্টের রোগ সেরে যাবে বা ব্যথার মূল কারণ দূর হয়ে যাবে, এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে করা ঠিক নয়। শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্ট ব্যথার ফিজিওথেরাপি-এর সঙ্গে হালকা মালিশ কখনও আরামদায়ক সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এটি ব্যায়াম, রোগ নির্ণয় বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।

কীভাবে হালকা মালিশ করবেন?

      • প্রথমে ত্বকে কোনো ক্ষত, ফুসকুড়ি বা সংক্রমণ আছে কি না দেখুন।
      • সামান্য তেল হাতে নিয়ে হাতের তালুতে ঘষে উষ্ণ করুন।
      • ব্যথার জয়েন্টের চারপাশে হালকা হাতে গোল করে মালিশ করুন।
      • জয়েন্টের ওপর জোরে চাপ দেবেন না।
      • ৫–১০ মিনিটের বেশি করার প্রয়োজন নেই।
      • মালিশের পর জায়গাটি উষ্ণ রাখুন।

কী করবেন না?

আপনার জয়েন্টে ব্যথা বেশি হলে, জোরে চাপ দিয়ে মালিশ করা করবেন না। আপনার কোনো জয়েন্ট যদি লাল, গরম ও ফুলে থাকে, সেখানে জোরে মালিশ না করাই ভালো। একইভাবে সাম্প্রতিক আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া মালিশ করা ঠিক নয়। ফিজিওথেরাপিতে ম্যানুয়াল থেরাপি কিছু নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলেও হাঁটু বা নিতম্বের অস্টিওআর্থ্রাইটিসে এটি ব্যায়ামের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তাই শুধু তেল মালিশের ওপর নির্ভর না করে আপনার জন্য উপযুক্ত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, দৈনন্দিন নড়াচড়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা, সবকিছুকে গুরুত্ব দেওয়া ভালো।

গরম পানি দিয়ে সেঁক দেওয়ার সঠিক নিয়ম

শীতকালে অথবা ঠান্ডার সময় জয়েন্ট শক্ত বা অস্বস্তিকর মনে হলে উষ্ণতা কিছু মানুষের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। তবে গরম সেঁক মানেই যত বেশি গরম, তত বেশি উপকার এ ধারণা ভুল। উষ্ণ সেঁক ব্যবহারের সময় ত্বকে পোড়া বা ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাপ বা ঠান্ডা ব্যবহারের সময় ত্বক সুরক্ষিত রাখতে কাপড়ের স্তর ব্যবহার করা উচিত এবং দীর্ঘ সময় একটানা প্রয়োগ করা উচিত নয়।  

সহজ নিয়ম

      • পানি আরামদায়ক উষ্ণ হবে, ফুটন্ত গরম নয়।
      • পরিষ্কার তোয়ালে বা কাপড় পানিতে ভিজিয়ে ভালোভাবে নিংড়ে নিন।
      • ব্যথার জায়গায় কয়েক মিনিট ধরে রাখুন।
      • ত্বকের অনুভূতি স্বাভাবিক আছে কি না দেখুন।
      • অতিরিক্ত গরম লাগলে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে ফেলুন।
      • ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গরম পানির ব্যাগ বা হিটিং প্যাড ব্যবহার করবেন না।
      • ত্বক অবশ থাকলে বিশেষ সতর্ক থাকুন।

কিছু ক্ষেত্রে ১০–১৫ মিনিটের মতো উষ্ণতা আরাম দিতে পারে, তবে ব্যক্তিভেদে সময় আলাদা হতে পারে। তাপের কারণে ব্যথা না কমে বরং বেড়ে গেলে সেঁক দেওয়া বন্ধ করুন। শীতে হাঁটুর ব্যথার ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম করার আগে হালকা উষ্ণতা অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে জয়েন্ট মুভমেন্ট ও ব্যায়াম করা যায়। কিন্তু গরম সেঁককে চিকিৎসার একমাত্র পদ্ধতি হিসেবে দেখা উচিত নয়। উষ্ণ সেঁকের উদ্দেশ্য মূলত আরাম ও শক্তভাব কমাতে সহায়তা করা।

ইউরিক এসিড কমানোর স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা

অনেক বয়স্ক ব্যক্তি আছেন, যারা জয়েন্টের ব্যথা হলেই মনে করেন এটি ইউরিক অ্যাসিডের কারণে হয়েছে। কিন্তু সব ধরনের জয়েন্ট ব্যথা ইউরিক অ্যাসিড বা গাউটের কারণে হয় না। হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, পুরোনো আঘাত কিংবা অন্য অনেক কারণেও ব্যথা হতে পারে। তাই শুধু ব্যথা দেখে ইউরিক অ্যাসিড বেড়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করা উচিত। যাদের গাউট বা উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা রয়েছে, তাদের খাবারের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর যে খাবার গুলো খাবেন

      • পর্যাপ্ত পানি
      • শাকসবজি
      • বিভিন্ন ধরনের ফল পরিমিত পরিমাণে
      • পূর্ণ শস্য বা আঁশযুক্ত শস্য
      • ডিম
      • কম চর্বিযুক্ত দুধ বা দই
      • ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত প্রোটিন
      • স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাবারের সামগ্রিক অভ্যাস

যেসব খাবারে সতর্কতা দরকার

গাউটের (গেঁটেবাত) ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পিউরিন যুক্ত কিছু খাবার, অ্যালকোহল এবং চিনি বা ফ্রুক্টোজ যুক্ত পানীয় সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই আপনার চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের তালিকা ঠিক করা ভালো। শুধু একটি খাবার বাদ দিলেই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা সমাধান হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, অতিরিক্ত চিনি ও অ্যালকোহল এড়ানো এবং চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ থাকলে তা নিয়ম মেনে গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ একটানা কম্পিউটারে কাজ করে চোখের সমস্যা? চোখের যত্নে ১৫টি করনীয় কাজ

এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার, গাউটের চিকিৎসায় শুধু খাবার পরিবর্তন সবসময় যথেষ্ট নয়। যাদের বারবার গেঁটেবাত ব্যাথা হয়, তাদের চিকিৎসকের নির্ধারিত ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ বা শুরু করবেন না।

শীতকালে জয়েন্টের ব্যথা কমাতে ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন গুরুত্বপূর্ণ

হাঁটু ও নিতম্ব শরীরের ওজন বহন করে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে এসব জয়েন্টে যান্ত্রিক চাপ বাড়তে পারে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসে অতিরিক্ত ওজন থাকলে ওজন কমানো ব্যথা ও দৈনন্দিন কার্যক্ষমতার ক্ষেত্রে উপকারী। তবে বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে হঠাৎ কঠোর ডায়েট করা উচিত নয়। এতে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে এবং পেশির শক্তি কমে যেতে পারে। তাই আপনি যে খাবার ও কাজ গুলো করতে পারেনঃ

      • অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া কমান
      • অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়া কমান
      • শাকসবজি খাওয়া বাড়ান
      • পর্যাপ্ত প্রোটিন নিন
      • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
      • নিয়মিত হাঁটা ও উপযুক্ত ব্যায়াম করুন

ওজন কমানোর প্রয়োজন থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে গেলে কী কী জানতে চাইবেন?

অনেকে ফিজিওথেরাপি বলতে শুধু ব্যথার জায়গায় মেশিন দেওয়াকে বোঝেন। কিন্তু ফিজিওথেরাপি আরও বিস্তর। এতে ব্যায়াম, মুভমেন্ট প্রশিক্ষণ, পেশি শক্তিশালী করা, দৈনন্দিন কাজ নিরাপদ করার পরামর্শ এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে গেলে আপনি যে প্রশ্নগুলো করতে পারেনঃ
      • আমার ব্যথার সম্ভাব্য কারণ কী?
      • কোন জয়েন্টের নড়াচড়া কমেছে?
      • কোন পেশি দুর্বল?
      • কোন ব্যায়াম আমার জন্য নিরাপদ?
      • কতবার ব্যায়াম করব?
      • কোন ব্যথাকে স্বাভাবিক অস্বস্তি এবং কোনটিকে সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরব?
      • হাঁটার সময় লাঠি বা অন্য সহায়ক যন্ত্র দরকার কি না?
      • গরম সেঁক আমার জন্য উপযুক্ত কি না?
এভাবে প্রশ্ন করলে এবং প্রশ্নের উত্তর জানতে পারলে আপনার জন্য একটি ব্যক্তিগত পরিকল্পনা তৈরি করা সহজ হবে।

কোন ভুলগুলো শীতকালে বয়স্কদের করা উচিত নয়

শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি করতে গিয়ে কয়েকটি সাধারণ ভুল এড়ানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হলোঃ

ভুল ১ঃ ব্যথা হলেই পুরোপুরি বিশ্রাম
দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা জয়েন্টের শক্তভাব ও পেশির দুর্বলতা বাড়াতে পারে। আপনার চিকিৎসক যদি সম্পূর্ণ বিশ্রামের নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তাহলে নিরাপদ মাত্রায় নড়াচড়া বজায় রাখুন।
ভুল ২ঃ প্রথম দিনেই কঠিন ব্যায়াম
শরীর অনেকদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ স্কোয়াট, সিঁড়ি ওঠা বা ভারী ব্যায়াম শুরু করলে সমস্যা হতে পারে।
ভুল ৩ঃ ব্যথা সহ্য করে ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া
হালকা অস্বস্তি আর তীব্র ব্যথা এক জিনিস নয়। ব্যথা হঠাৎ বেড়ে গেলে থামুন।
ভুল ৪ঃ শুধু তেল মালিশের ওপর নির্ভর করা
মালিশ সাময়িক আরাম দিতে পারে, কিন্তু রোগের মূল কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা দরকার হতে পারে।
ভুল ৫ঃ নিজের ইচ্ছায় ব্যথার ওষুধ খাওয়া
বয়স্কদের অনেকেরই একাধিক ওষুধ চলতে পারে। কিডনি, পাকস্থলী, হৃদ্‌যন্ত্র বা অন্য রোগ থাকলে কিছু ব্যথানাশক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিয়মিত ওষুধের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
ভুল ৬ঃ ইউরিক অ্যাসিডের রিপোর্ট না দেখে খাবার বন্ধ করা
শুধু জয়েন্ট ব্যথা হলেই সব ধরনের মাছ, ডাল বা প্রোটিন বাদ দেওয়া উচিত নয়। খাবারের পরিবর্তন রোগের ধরন অনুযায়ী হওয়া উচিত।

শীতে হাঁটুর ব্যথার ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম করার সময় ৭টি সহজ নিয়ম

শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম নিরাপদ রাখতে নিচের বিষয়গুলো মনে রাখতে পারেন

১। প্রথমে শরীর কিছুটা উষ্ণ করুন।
২। খুব ধীরে ব্যায়াম শুরু করুন।
৩। ব্যথার সীমা বুঝে ব্যায়ামের পরিমাণ ঠিক করুন।
৪। একদিন বেশি করে পরের কয়েক দিন বন্ধ রাখার বদলে নিয়মিত করুন।
৫। ভারসাম্যের সমস্যা থাকলে পাশে কাউকে রাখুন।
৬। ব্যায়ামের সময় তীব্র ব্যথা হলে থামুন।
৭। নিজের রোগের ধরন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম আর্থ্রাইটিসের ব্যথা ও দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা উন্নত করতে পারে তাই  নিয়মিত ও আপনার শরীরের উপযোগী ব্যায়ামের ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। 

শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর দৈনন্দিন অভ্যাস

বয়স্কদের শীতকালীন জয়েন্ট ব্যথা কমানোর জন্য বড় কোনো পরিবর্তন সবসময় দরকার হয় না। বরং ছোট ছোট অভ্যাস নিয়মিত করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
      • সকালে ধীরে ধীরে শরীর সচল করুন।
      • দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকবেন না।
      • শরীরকে অতিরিক্ত ঠান্ডায় রাখবেন না।
      • নিয়মিত হালকা হাঁটাচলা করুন।
      • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করুন।
      • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
      • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
      • সুষম খাবার খান।
      • পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করুন।
      • পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে ঘরের মেঝে নিরাপদ রাখুন।
      • নিজের রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানুন।

ফিজিওথেরাপি কি সবার জন্য একই?

ফিজিওথেরাপি সবার জন্য একই না। দুইজনের হাঁটুতে একই রকম ব্যথা থাকলেও দুজন মানুষের জন্য একই ব্যায়াম উপযুক্ত নাও হতে পারে। একজনের অস্টিওআর্থ্রাইটিস থাকতে পারে, অন্যজনের গাউট, কারও পুরোনো লিগামেন্টের আঘাত থাকতে পারে, আবার কারও সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচার হয়ে থাকতে পারে। তাই শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি ব্যক্তিভেদে সাজানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। এই জন্য ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ সাজানো প্রয়োজন। ব্যথা, বয়স, অন্যান্য রোগ বা চলাফেরার সীমাবদ্ধতা ব্যায়ামের বাধা হলে, চিকিৎসক অথবা প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যায়ামের প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারনেট থেকে কোনো ব্যায়াম দেখে সবার মতো একইভাবে করা ঠিক নয়। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি যদি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা, ভারসাম্যের সমস্যা বা সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের মধ্যে থাকেন, তাহলে ব্যায়াম শুরু করার আগে ব্যক্তিগত পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

শীতকালে বয়স্কদের শরীরের সব জয়েন্ট ব্যথা ঘরে বসে ফিজিওথেরাপি দিয়ে সামলানো ঠিক নয়। শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পরও নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত
      • হঠাৎ প্রচণ্ড জয়েন্ট ব্যথা শুরু হলে
      • জয়েন্ট খুব ফুলে গেলে
      • জয়েন্ট লাল ও অস্বাভাবিক গরম হলে
      • জ্বরের সঙ্গে জয়েন্টের ব্যথা হলে
      • পড়ে গিয়ে ব্যথা শুরু হলে
      • পায়ে ভর দিতে না পারলে
      • জয়েন্টের আকৃতি হঠাৎ বদলে গেলে
      • হাত-পায়ে দুর্বলতা বা অসাড়তা দেখা দিলে
      • ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকলে
      • কয়েক সপ্তাহের যত্নেও সমস্যা না কমলে
অবশ্যই মনে রাখবেন বয়স্কদের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের তীব্র ব্যথাকে শুধু “বাতের ব্যথা” ধরে নিয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা উচিত নয়।

শেষ কথাঃ শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি

শীতকালে জয়েন্টের ব্যথা বাড়লে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, আবার ব্যথাকে অবহেলাও করা উচিত নয়। তাই প্রথমে আপনাকে বুঝতে হবে ব্যথার কারণ কী। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, গাউট, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, পুরোনো আঘাত কিংবা অন্য কোনো সমস্যা কারণ অনুযায়ী যত্নের পদ্ধতিও বদলে যায়। শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ফিজিওথেরাপি এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিরাপদভাবে আপনার শরীরকে সচল রাখা, দুর্বল পেশিকে শক্তিশালী করা, জয়েন্টের নড়াচড়া বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা ধরে রাখা। আপনার শরীরের জন্য নিয়মিত উপযুক্ত ব্যায়াম, প্রয়োজনে উষ্ণ সেঁক, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ জীবনযাপন সবগুলো একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবেন, শীতে হাঁটুর ব্যথার ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম কোনো এক ধরনের ব্যায়ামের নাম নয়। আপনার সমস্যার ধরন অনুযায়ী ব্যায়াম নির্বাচন করাই আসল বিষয়। ব্যথা কমানোর জন্য জোর করে ব্যায়াম করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ব্যথার ভয়ে পুরোপুরি নড়াচড়া বন্ধ করাও ভালো নয়। সবশেষে, শীতকালে বয়স্কদের জয়েন্ট ব্যথার ফিজিওথেরাপি শুরু করার আগে আপনার জয়েন্টের ব্যথার কারণ এবং শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করুন। প্রয়োজনে একজন চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরামর্শ নিন। কারণ সঠিক ব্যায়াম আপনার দৈনন্দিন চলাফেরা সহজ করতে পারে, কিন্তু ভুল ব্যায়াম বা ভুল পদ্ধতি উল্টো সমস্যা বাড়াতে পারে।






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অলইনফোনেষ্ট এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url